কৃষি শিক্ষার আধুনিকায়নে বাকৃবিতে ‘এলগনিং’ প্রকল্প

বাকৃবি প্রতিনিধি:

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও কৃষি শিক্ষাকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আন্তর্জাতিক প্রকল্প ‘এলগনিং’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অফিসে এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ‘জলবায়ু সহনশীলতার জন্য কৃষি ও কৃষিব্যবসা শিক্ষার ভবিষ্যৎ গঠন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কৃষি ও কৃষিব্যবসা শিক্ষায় জলবায়ু সহনশীলতা নিয়ে আলোচনা হয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পটির লক্ষ্য আধুনিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবনী শিক্ষাপদ্ধতি ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে কৃষি শিক্ষাকে সময়োপযোগী করা এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও কৃষিব্যবসা খাত গড়ে তোলা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। স্বাগত বক্তব্য দেন কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ইসমত আরা বেগম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাদের। পরে এলগনিং প্রকল্পের পরিচিতি ও কার্যক্রম তুলে ধরেন প্রকল্প সমন্বয়ক ও কৃষি ব্যবসা ও বিপণন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।

‘কৃষি ও কৃষিভিত্তিক ব্যবসায় শিক্ষায় জলবায়ু সহনশীলতা’ বিষয়ে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মুরাদ আহমেদ ফারুক, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এবং সাস্টেইনেবল এগ্রিকালচার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের পরিচালক মো. আব্দুর রউফ। আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন কৃষিতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. আহমদ খায়রুল হাসান। এতে অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, গবেষক ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এশিয়ায় কৃষি উদ্ভাবনকে এগিয়ে নেওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কৃষি ও কৃষিভিত্তিক ব্যবসাকে আরও টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল করাই এলগনিং প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এর আওতায় বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার পাঁচটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কৃষি ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে উদ্ভাবনী ক্লাস্টার গড়ে তোলা হবে। গ্রিন ডিল, ডিজিটাল রূপান্তর এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং কৃষি ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে অনলাইন ও ব্লেন্ডেড লার্নিং কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, কর্মপরিবেশে প্রযুক্তি ও নতুন গবেষণাকে সমন্বিত করা অত্যন্ত জরুরি। গবেষণার ধারাকে আরও সমৃদ্ধ করতে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পারস্পরিক প্রশিক্ষণ ও সফরের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মূল্যবান তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। বাকৃবিতে দক্ষ গবেষক ও বিজ্ঞানীদের একটি শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে। তাঁদের যৌথ যোগাযোগ ও সহযোগিতার মাধ্যমে এ উদ্যোগ থেকে আরও ভালো ফলাফল আসবে বলে আশা করছি।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *