রংপুর (মিঠাপুকুর) প্রতিনিধি:
রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলায় গৃহবধূর স্বর্ণালংকার লুটে নিয়ে আত্মসাৎ সহ গর্ভজাত সন্তান হত্যার ঘটনাকে মুছে ফেলতে ভুক্তভোগীকে হত্যা সহ বিভিন্ন প্রকার হুমকি-প্রদান অব্যাহত রাখায় বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে ভুক্তভোগী ওই মহিলা ।
অভিযোগে জানা গেছে, ৬ নং কাফ্রিখাল ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামে তিন মাসের আত্মসত্তা গৃহবধু আলেয়া বেগম (৪৩)কে মারধার ও স্বর্ণ অলংকার লুটপাট করে ঘর থেকে বের করে দেয় নিজ দেবর, স্বামী ও দেবরের স্ত্রী। এ সময় স্বামী ও দেবরের নির্যাতনের আঘাতে ৩ মাসের সন্তান নষ্ট হয়ে রক্ত ক্ষণন শুরু হয়। এতে গৃহবধূ অসুস্থ হয়ে পড়লে এক ভ্যান চালক তাকে মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়ে দেন। পরে ডাক্তার অবস্থার অবনতি দেখে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।
২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় সংঘটিত ঘটনায় থানায় কোন মামলা নেওয়া হয়নি। এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ থাকে যে, ৭/৮ বছর আগে ৬ নং কাফ্রিখাল ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামে মোহাম্মদ আব্দুস সালাম ঢাকায় অবস্থানরত আলেয়া বেগম (৪৩) বিবাহ করে। সংসার জীবনে তাদের ৪/৫ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে এবং বর্তমানে তিনি ৩ মাসের গর্ভবতী। ২ মাস আগে ঢাকা থেকে আলেয়া বেগমকে তার স্বামী আব্দুস সালাম মিঠাপুকুরে নিয়ে আসে তার বাড়িতে। ঢাকা থেকে আসার সময় আলেয়া বেগম তার কষ্টার্জিত ১০ ভড়ি স্বর্ণালংকার ও বেশ টাকা পয়সা নিয়ে আসেন। এখানে আসার কিছুদিন পর থেকে প্রায়-প্রতিদিনই অমানবিক নির্যাতন শুরু করে তার স্বামী। ১০ ভড়ি স্বর্ণ আত্মসাৎ এবং তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার জন্য ফন্দি আটতে থাকেন।
ভুক্তভোগী আলেয়া বেগমের জাতীয় পরিচয় পত্র নং ৭৩৩৮৯৭২১২৩ অভিযোগ করে বলেন, আব্দুস সালাম ও তার ভাই মোহাম্মদ জামাল মিয়া উভয়ের পিতা মৃত আফসার আলী, মোছাম্মাৎ নাজমিন বেগম স্বামী জামাল মিয়া সকলের বাড়ী ইকবালপুর ৬ নং কাফ্রিখাল ইউনিয়ন, ঘটনার দিন তারা সম্মিলিতভাবে আমার উপর হামলা করে ডয়ারে রক্ষিত অলংকার টাকা পয়সা বের করে নেয়। এ সময় তাদের আক্রমণের আঘাতে আমার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হতে থাকে এবং আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। পরে প্রথমে মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রংপুর মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে চিকিৎসা নেই।
বর্তমানে তারা প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছে আমার উল্লেখিত স্বর্ণালংকার দিবেনা, আমাকে নিয়া সংসার করিবেনা, বাড়ী থেকে বাহির করিয়া দিবে, কৌশলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাবে মর্মে বিভিন্ন রকম হুমকি দিতে থাকে। আমি স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমে উল্লেখিত স্বর্ণালংকার উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হই।
আমি দীর্ঘ ৭ দিন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গাইনি বিভাগে চিকিৎসা শেষে বাড়ীতে গেলে তারা আমাকে তাড়ীয়ে দেয়। পরে স্থানীয় কিছু ব্যাক্তির সহায়তার বাড়ীতে গিয়ে উঠি।
মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর আদালত এলাকায় দেখা গেল জনৈক উকিলের টেবিলের সামনে বসে অঝোরভাবে কাঁদছেন আলেয়া বেগম। সাথে রয়েছে তার চার বছরের কন্যা সন্তানটিও।
তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে জানালেন, এখানে তো আমার কেউ নাই ভাই। একমাত্র আল্লাহই আমার ভরসা। শেষ পর্যন্ত কয়েকজনের সহযোগিতায় আইনি ব্যবস্থা নিতে এসেছেন এখানে। তিনি এ ব্যাপারে প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।