বাকৃবিতে শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়তে ছাত্রদলের মতবিনিময় সভা

বাকৃবি প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) মাদক, চুরি, ডেঙ্গুসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সেগুলোর সমাধান নিয়ে সেমিনার ও মতবিনিময় সভা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) সংলগ্ন মিনি কনফারেন্স রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাকৃবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক কৃষিবিদ মো. আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান। প্রধান আলোচক ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. জাফরউল্ল্যাহ কাজল। সভা সঞ্চালনা করেন ছাত্রদলের সদস্যসচিব কৃষিবিদ মো. শফিকুল ইসলাম ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক কৃষিবিদ এ. এম. শোয়াইব।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শহিদুল ইসলাম, সোনালী দলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুল আলীম এবং নিরাপত্তা কাউন্সিলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদিউজ্জামান খান। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক নেতৃবৃন্দ, আবাসিক এলাকার বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে কৃষিবিদ মো. আতিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি জ্ঞান, গবেষণা, মানবিকতা ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিকাশের ক্ষেত্র। তাই ক্যাম্পাসের প্রতিটি শিক্ষার্থীর নিরাপদ, সুস্থ ও স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করাই এ মতবিনিময় সভার মূল উদ্দেশ্য।

মাদকের বিস্তার রোধে তিনি বলেন, মাদক কোনো শিক্ষার্থীর একক সমস্যা নয়; এটি পুরো শিক্ষাঙ্গনের জন্য সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ। ক্যাম্পাসে মাদক প্রবেশের পথ বন্ধ করা, নিয়মিত নজরদারি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মশার প্রজননস্থল নিয়মিত শনাক্ত ও ধ্বংস করা, জমে থাকা পানি অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং প্রয়োজনীয় মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত প্রচারণা চালানো প্রয়োজন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ একই কর্মকাণ্ডে ফিরে যাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে ছাত্রদলের মতো সংগঠনের সামাজিক ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং ক্যাম্পাসে মাদক প্রবেশের পথ বন্ধে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। যারা ইতোমধ্যে মাদকে জড়িয়ে পড়েছেন, তাদের যথাযথ পরামর্শের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতেও সবার উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের জন্য তিনি ছাত্রদলকে ধন্যবাদ জানান।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *