অংকুরের কমিটিতে ছাত্রলীগ কর্মী, বিতর্কের মুখে স্থগিত কমিটি

বাকৃবি প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সাংস্কৃতিক সংগঠন অংকুরের ২০২৬-২৭ মেয়াদের কমিটিতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক কর্মীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠন দাবি করা অংকুরের কমিটিতে এমন অন্তর্ভুক্তি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। পরে সমালোচনার মুখে কমিটিটি স্থগিত করে সংগঠনটি। একই সঙ্গে কমিটি গঠনে ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে অংকুর।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) অংকুরের ২০২৬-২৭ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রান্ত সাহা প্রহরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ২০১৯ সালে ছাত্রলীগের বাকৃবি শাখার কমিটিতে উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছিলেন।

কমিটি ঘোষণার পর বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের অনেকে প্রশ্ন তোলেন, অংকুর যেখানে নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে দাবি করে, সেখানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন কীভাবে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পেলেন। পাশাপাশি, তার রাজনৈতিক পরিচয় সংশ্লিষ্টদের জানা ছিল না- এমন দাবির বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে।

এরপর বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) অংকুরের পক্ষ থেকে কমিটিটি স্থগিত করা হয়। পরদিন শুক্রবার (২ অক্টোবর) সংগঠনটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করা হয়।

এ বিষয়ে স্থগিত কমিটির সভাপতি, প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও এগ্রোফরেস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী কামরুল ইসলাম বলেন, অংকুরের সঙ্গে তার আগে কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। সংগঠনটির কয়েকজন সদস্য তার কাছে এসে অংকুরের কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে সহযোগিতা চান। পরে তিনি তাদের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

অধ্যাপক কাজী কামরুল ইসলাম বলেন, আমি আসলে এ ব্যাপারে কিছুই জানতাম না। আমি ছাত্রজীবন থেকে এখন পর্যন্ত কখনো অংকুরের সঙ্গে জড়িতও ছিলাম না। ওরা আমার কাছে একদিন আমার জুনিয়র শিক্ষক অনিরুদ্ধকে নিয়ে আসে। তারা বলে, ফ্যাসিবাদের সময়ের পর থেকে অংকুরের কার্যক্রম একদম হারিয়ে গেছে, আমরা এই সংগঠনটিকে বাঁচাতে চাই। আমি তাদের সাহায্য করতে চাইলাম এবং বললাম, তাদের যেকোনো সহযোগিতা আমি করব।

তিনি বলেন, আমি তাদের বলেছিলাম, বিতর্কিত কাউকে কমিটিতে নেওয়া যাবে না। সম্ভবত যে শিক্ষকরা কমিটিটি করেছেন, তারা ওই ছেলের ব্যাপারে কিছু জানতেন না। সে ছেলেও নিজের সেই পরিচয় গোপন করেছে। আসলে এখানে তাদের একটু ভুল হয়ে গেছে।

কমিটি স্থগিতের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি গতকাল ঐ ছেলের বিষয়টি দেখা মাত্রই কল দিয়ে বললাম, এই কমিটি এখানেই স্থগিত করো এবং ওই ছেলেকে এক্ষুনি বের করো। সঙ্গে সঙ্গে একটি বিবৃতি দিতে বলি। পরবর্তীতে কমিটি করার সময় একদম ফ্রেশ ক্যান্ডিডেট নিয়ে কমিটি করার জন্য বলেছি। সর্বোপরি এটি তাদের একটি ভুল হয়ে গেছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *