ধান চাষে পানি সাশ্রয় ও মিথেন নিঃসরণ হ্রাসে বাকৃবি-জাপান সমঝোতা

বাকৃবি বিশেষ সংবাদদাতা:

বাংলাদেশে ধান চাষে মিথেন গ্যাসের নিঃসরণ কমানো, সেচের পানির সাশ্রয় এবং পরিবেশবান্ধব কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) জাইকা-সমর্থিত স্যানরাইস (SANRICE) প্রকল্পের সঙ্গে জাপানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এজিআই-সিএলই (AJI-CLE Co., Ltd.)-এর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদারের উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়।

যৌথ গবেষণাটির মূল লক্ষ্য হলো স্যানরাইস প্রকল্পের উদ্ভাবিত ‘3F4D+MD’ সেচপদ্ধতি ধান চাষে মিথেন গ্যাসের নিঃসরণ কতটা কমাতে সক্ষম, তা বৈজ্ঞানিকভাবে নিরূপণ করা। পাশাপাশি সেচের পানির সাশ্রয়, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন, পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রযুক্তিটির সম্ভাবনা মূল্যায়ন করা হবে।

স্যানরাইস প্রকল্পের আওতায় উদ্ভাবিত ‘3F4D+MD’ একটি পর্যায়ক্রমিক সেচপ্রযুক্তি। প্রচলিত পদ্ধতিতে ধানক্ষেতে দীর্ঘ সময় পানি জমিয়ে রাখার পরিবর্তে নির্দিষ্ট বিরতিতে সেচ প্রয়োগ করা হয়। গবেষণায় ইতোমধ্যে দেখা গেছে, এ প্রযুক্তি ব্যবহারে ধানের ফলন অক্ষুণ্ণ রেখেই সেচের পানির ব্যবহার কমানো এবং ধানের দানায় আর্সেনিকের পরিমাণ হ্রাস করা সম্ভব।

২০২২ সাল থেকে জাপান সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এজেন্সি (JST) এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (JICA) সহায়তায় স্যানরাইস প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে প্রকল্পটির গবেষণা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষামূলক গবেষণা মাঠ এবং যশোর জেলার কৃষকদের জমিতে ‘3F4D+MD’ সেচপদ্ধতির কার্যকারিতা সফলভাবে যাচাই করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের পরীক্ষায় ধানের উৎপাদন বজায় রেখে সেচের পানির ব্যবহার ও ধানের দানায় আর্সেনিকের উপস্থিতি কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে।

জানা যায়, ধান চাষে মিথেন নিঃসরণ হ্রাসে উদ্ভাবিত সেচপদ্ধতিটির কার্যকারিতা বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাইয়ের লক্ষ্যে এ ধরনের যৌথ গবেষণা উদ্যোগ এটিই প্রথম। এর মাধ্যমে পানির সাশ্রয় ও আর্সেনিকের মাত্রা কমানোর পাশাপাশি পরিবেশগত প্রভাব হ্রাসে প্রযুক্তিটির ভূমিকা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

গবেষণার ফলাফল ইতিবাচক হলে ধান উৎপাদনে পরিবেশবান্ধব সেচপ্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। একই সঙ্গে কৃষিতে পানির দক্ষ ব্যবহার, খাদ্যনিরাপত্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও জাপানের গবেষণা সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *