বাকৃবি শিক্ষার্থীদের সাফল্য: ফুড সিস্টেমস ইনোভেশন চ্যালেঞ্জে শীর্ষ ছয়ে বাংলাদেশ

বাকৃবি বিশেষ সংবাদদাতা:

আন্তর্জাতিক মঞ্চে আবারও সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থীরা। নেদারল্যান্ডসে আয়োজিত ‘ফুড সিস্টেমস ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ ২০২৬’-এ বিশ্বের ১১৯টি দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে শীর্ষ ছয়ে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীদের দল ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’। পাট ও পাটজাত বর্জ্য ব্যবহার করে টেকসই খাদ্যব্যবস্থার উদ্ভাবনী সমাধান তুলে ধরে আন্তর্জাতিক এ স্বীকৃতি অর্জন করেছে দলটি।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন দলের অন্যতম সদস্য নুর আয়শা চৌধুরী।

আট সদস্যের ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’ দলে রয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থী। তারা হলেন মোছাঃ মুর্শিদা জাহান মিতু, নুর আয়শা চৌধুরী, মো. আরকানুল ইসলাম আকিক, সাদিয়া ইসলাম বাঁধন, সায়ফা সাবা হোসেন ও কুর্সি রহমান লুবা। দলের অন্য দুই সদস্য হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী লিটন ত্রিপুরা এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থী আহসানী তাকবীম এশা।

প্রকল্পের দিকনির্দেশনায় ছিলেন বাকৃবির ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদ এবং ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মতিউর রহমান। কারিগরি সহযোগিতায় ছিলেন মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মফিজুর রহমান জাহাঙ্গীর।

জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এ আয়োজনের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয় গত ২৯ সেপ্টেম্বর নেদারল্যান্ডসের ওয়াগেনিঙ্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওম্নিয়া ভবনে। সেখানে প্রতিযোগী দলগুলো তাদের বাস্তবায়িত প্রকল্প প্রদর্শন করে। পিচ রাউন্ড, জুরি বোর্ডের প্রশ্নোত্তর এবং অতিথিদের সামনে প্রকল্প উপস্থাপনার মাধ্যমে বিজয়ীদের নির্ধারণ করা হয়।

প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’-এর উদ্ভাবনের কেন্দ্রে ছিল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ পাট।

দলের সদস্য নূর আয়শা চৌধুরী বলেন, ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’-এর মূল লক্ষ্য ছিল পাটকে কাজে লাগিয়ে খাদ্যব্যবস্থায় নতুন উদ্ভাবন আনা। এ জন্য পরিত্যক্ত পাটের বস্তা প্রক্রিয়াজাত করে জুট জিওটেক্সটাইল এবং পাটকাঠি অক্সিজেন-স্বল্প পরিবেশে পুড়িয়ে বায়োচার তৈরি করা হয়েছে। বায়োচার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে দলের নিজস্ব নকশায় তৈরি চুলা।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় অতিবৃষ্টি, মাঠপর্যায়ের কাজ এবং নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষার পাশাপাশি নমুনা সংগ্রহ ও গবেষণাগারের বিশ্লেষণ চালিয়ে যাওয়া ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। এসব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

দেশীয় পাট ও পাটজাত উপকরণ কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্জিত এ স্বীকৃতি বাংলাদেশের তরুণ গবেষকদের উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে তুলে ধরেছে। এ অর্জন টেকসই ও সহনশীল খাদ্যব্যবস্থা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবনের পথ প্রশস্ত করবে বলে আশাবাদী ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’-এর সদস্যরা।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *