বাকৃবির ৬১ হাজার ৬৯৯ অ্যালামনাই বিশ্বজুড়ে অবদান রাখছেন: উপাচার্য

বাকৃবি বিশেষ সংবাদদাতা:

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ র‌্যালি, বৃক্ষরোপণ ও মাছের পোনা অবমুক্তকরণসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, বাকৃবির প্রায় ৬১ হাজার ৬৯৯ জন অ্যালামনাই দেশ-বিদেশে প্রশাসন, গবেষণা, শিক্ষা ও শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের জন্মদিন উদযাপন নয়, বরং দীর্ঘ ৬৬ বছরের অর্জন ও অবদানকে স্মরণ করারও দিন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে আনন্দ র‌্যালির উদ্বোধন করেন। র‌্যালিটি প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেনের সামনে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলিপ্যাডে গিয়ে শেষ হয়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।

র‌্যালি শেষে হেলিপ্যাডে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন কমিটি হেলিপ্যাড সংলগ্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা। আবাসিক হলগুলোতে বৃক্ষরোপণের জন্য হল প্রাধ্যক্ষদের হাতে চারা গাছও তুলে দেওয়া হয়।

বাকৃবির ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। এ সময় রেজিস্ট্রার ড. মো. হেলাল উদ্দীন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম, বাকৃবি সোনালি দলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম ভূঁঞাসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া তাঁর বক্তব্যে ১৯৫২, ১৯৬৯, ১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও সংস্কারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে বিশ্বপরিসরে একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৬১ হাজার ৬৯৯ জন অ্যালামনাই দেশ-বিদেশে প্রশাসন, গবেষণা, শিক্ষা ও শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অ্যালামনাইদের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় আরও জোরদার করতে বিশ্ববিদ্যালয় শিগগিরই একটি অফিসিয়াল অ্যালামনাই পোর্টাল চালু করবে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অ্যালামনাইদের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে এবং তাঁদের পারস্পরিক সমন্বয় বাড়বে।

উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জনকে আরও সমৃদ্ধ করতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সততা, একাগ্রতা ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *