কুবি প্রতিনিধি:
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ১১১তম সিন্ডিকেট সভায় দুই শিক্ষকের পূর্বের শাস্তি সংশোধন এবং এক শিক্ষককে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান তদন্তপ্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১১তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তার বিষয়ে আগে নেওয়া সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হয়।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মো. আলী রেজওয়ান তালুকদারের পদাবনতির সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। তাঁকে সতর্ক করা হয়েছে। অন্যদিকে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের আগের শাস্তিও সংশোধন করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী দুই বছর তিনি পদোন্নতির জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
এছাড়া গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী এম. আনিছুল ইসলামের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান তদন্তপ্রক্রিয়া যথারীতি চলবে।
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মো. আলী রেজওয়ান তালুকদারের পদাবনতি বাতিলের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরিফুল করীম বলেন, ছয় বছর আগের একটি ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দেওয়ার পরও প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর তা সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করা হয়নি। পরে নিয়ম না মেনে তাঁকে শাস্তি হিসেবে তিন বছর ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা এবং ওই সময়ের অভিজ্ঞতা গণনা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা ছিল সাংঘর্ষিক।
এবিষয়ে উপাচার্য আরও বলেন, রিভিউ কমিটির সুপারিশে দেখা গেছে, ওই প্রক্রিয়ায় নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং শাস্তির মাত্রাও যথাযথ ছিল না। এ কারণে রেজওয়ান তালুকদারের পদাবনতির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে তাঁকে সতর্ক করা হয়েছে।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক কাজী এম. আনিছুল ইসলামের ক্যাম্পাসে প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, আগের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হায়দার আলীর প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তদন্ত চলাকালীন তাঁর ক্যাম্পাসে প্রবেশাধিকার স্থগিত ছিল। তবে কয়েক মাস আগে তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার কথা থাকলেও এ প্রক্রিয়া প্রায় দুই বছর ধরে চলেছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ায় পূর্বের প্রশাসনের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁর ক্যাম্পাসে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে মূল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যথানিয়মে চলবে।
ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের শাস্তি সংশোধনের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, তাঁর ক্ষেত্রে তদন্তপ্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছিল এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গিয়েছিল। তবে পূর্বের শাস্তির মাত্রা সঠিক ছিল না। তাই আগের শাস্তি সংশোধন করে আগামী দুই বছর তাঁর পদোন্নতি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।