রংপুরের পীরগাছায় তিনজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত 

রংপুর (পীরগাছা) প্রতিনিধি:

রংপুরের পীরগাছায় তিনজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। তবে আক্রান্ত তিনজনই বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন। রোববার রংপুর জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ফিরোজ খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আক্রান্ত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের আদম গ্রামের সজিব মিয়া (২৩), আবদুল মান্নান (৬০) ও মোছা. স্বপ্না বেগম (৪৫)।

ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ফিরোজ খান জানান, অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর গত ৫ সেপ্টেম্বর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) একটি দল পীরগাছায় গিয়ে ১১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে। পরীক্ষার প্রতিবেদনে তিনজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। বাকি আটজনের পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে। আক্রান্ত তিনজন বর্তমানে সুস্থ আছেন।

পীরগাছা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে আদম গ্রামের সজিব মিয়া একটি গরু কিনে লালনপালন শুরু করেন। গত ২১ আগস্ট হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সংশ্লিষ্টদের না জানিয়ে তিনি গরুটি জবাই করেন। পরে মাংস স্থানীয়দের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া ও বিক্রি করা হয়। ওই মাংস কাটা ও খাওয়ার পর ১১ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেয়।

পীরগাছা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শাকিল আহমেদ বলেন, অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির ১০ থেকে ১৫ দিন পর তারা বিষয়টি জানতে পারেন। কয়েকজনের হাতে ফোসকা দেখা দেওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ওই এলাকায় গিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়। তবে সেখানে আর কোনো গরু অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, তড়কা রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম চলছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার পশুকে তড়কা ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে উঠান বৈঠক ও লিফলেট বিতরণ এবং জরুরি সেবায় একটি ‘ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম’ কাজ করছে।

উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও খামারিদের সমন্বয়ে সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *