নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আগাম আলু চাষ শুরু

মোঃ খোকন মিঞা, নীলফামারী কিশোরগঞ্জ (প্রতিনিধি):

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে শীতকালীন ফসল আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। ধান কাটার পরপরই জমি প্রস্তুত ও আলুর বীজ বপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তারা। গত বছর স্থানীয় ‘সেভেন’ জাতের আগাম আলু চাষ করে মাত্র ৬০ দিনে বিঘাপ্রতি ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ পাওয়ায় এ বছরও আগাম আলু চাষে আশাবাদী কৃষকরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, উঁচু জমিগুলোতে আগাম আলু চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে। কেউ কেউ ইতোমধ্যে সেভেন জাতের আলু বপন শুরু করেছেন। সাধারণত নভেম্বরের শুরুতে আলু বপনের উপযুক্ত সময় হলেও এ বছর সেপ্টেম্বরের শেষ থেকেই আগাম আলু বপনে নেমেছেন কৃষকরা।

কৃষকরা জানান, স্থানীয় সেভেন জাতের আলু শীত আসার আগেই রোপণ করা যায় এবং এতে তেমন ক্ষতির আশঙ্কা থাকে না। এ জাতের আলু ভালো ফলন দেয় এবং বপনের প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যেই উত্তোলন করা যায়। গত বছর মৌসুমের শুরুতে বাজারে নতুন আলুর ব্যাপক চাহিদা থাকায় প্রতি কেজি আলু ৮৫ থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হয়েছিল। এতে কৃষকরা ভালো লাভ পেয়েছিলেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় মোট ৬ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে আগাম আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ইতোমধ্যে কৃষকরা আগাম আলু বপন শুরু করেছেন। গত বছর আগাম আলু চাষে ভালো লাভ হওয়ায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে আলু চাষ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মৌসুমের শুরুতে বাজারে নতুন আলুর চাহিদা বেশি থাকায় আগাম আলু চাষ করে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ থাকে। কিশোরগঞ্জের কৃষকরা বিশেষ করে স্থানীয় সেভেন জাতের আগাম আলু চাষ করে আসছেন। অল্প সময়ে ফসল ঘরে তুলে ভালো দাম পাওয়ায় অনেক কৃষকের কাছে এ জাতের আলু গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে।

এ বছর সেভেন জাতের পাশাপাশি ‘কারেজ লাল’ জাতের আলুও চাষ করছেন কৃষকরা। বাজারে এ জাতের চাহিদা থাকায় সেভেন জাতের মতো কারেজ লাল আলু থেকেও ভালো লাভের আশা করছেন তারা।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম বলেন, দেশের মধ্যে প্রথম দিকে আলু বপন ও উত্তোলন করা হয় কিশোরগঞ্জ এলাকায়। বাজারে আগাম নতুন আলু আসায় এখানকার কৃষকরা তুলনামূলক ভালো দাম পান। আগাম ধানে ভালো ফলন পাওয়ার পর কৃষকরা একই জমিতে সেভেন জাতের আগাম আলু চাষ শুরু করেছেন। তাঁর মতে, সেভেন জাতের আলু কিশোরগঞ্জের কৃষকদের জন্য শুধু একটি লাভজনক ফসল নয়, এটি তাদের ভাগ্যবদলের ফসল হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *