আজীবন সম্মাননায় ভূষিত বাকৃবির অধ্যাপক ড. শাহজাহান মঞ্জিল

বাকৃবি প্রতিনিধি:

কৃষি শিক্ষা ও গবেষণায় দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান মঞ্জিল। গত বুধবার (৪ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর হোটেল অর্নেটের বলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

এশিয়ান জার্নালিস্ট হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড কালচারাল ফাউন্ডেশনের (এজাহিকাফ) উদ্যোগে ‘শিক্ষার আলোয় গড়ি আগামীর আলোকিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অধ্যাপক শাহজাহান মঞ্জিলের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী ফেরদৌস আরা ও সংগীতগুরু ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলম। এ ছাড়া বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সম্মাননা প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান মঞ্জিল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, গবেষণা ও কৃষির উন্নয়নে কাজ করার প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা তাঁর কাছে বিশেষ আনন্দ ও গর্বের। তবে তিনি এ অর্জনকে ব্যক্তিগত সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। তাঁর মতে, এটি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সহকর্মী, শিক্ষার্থী এবং দেশের কৃষি গবেষণার সঙ্গে যুক্ত সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি। এ সম্মাননা ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।

ভবিষ্যৎ গবেষণার পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, উদ্ভিদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো, উপকারী অণুজীবের ব্যবহার, জীবাণুভিত্তিক জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক উদ্ভাবন এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত উদ্ভিদ রোগ মোকাবিলায় গবেষণা অব্যাহত রাখতে চান। তাঁর চলমান গবেষণার অন্যতম উদ্যোগ হলো বাকৃবিতে তাঁর গবেষণায় উদ্ভাবিত পিজি-ট্রাইকোডার্মা প্রযুক্তির উন্নয়ন, মাঠপর্যায়ে কার্যকারিতা যাচাই এবং বাণিজ্যিক উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এ প্রযুক্তিতে উপকারী ছত্রাক ট্রাইকোডার্মা এসপেরেল্লাম ব্যবহার করে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও রোগ দমনে সহায়তা করা সম্ভব। একই সঙ্গে রাসায়নিক সার ও ছত্রাকনাশকের ব্যবহার কমানোরও সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কলার পানামা রোগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফসলের মাটিবাহিত রোগ ব্যবস্থাপনা, আলু ও টমেটোর ঢলে পড়া রোগ, সবজির রোগবালাইয়ের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নতুন রোগঝুঁকি নিয়েও গবেষণা করছেন। গবেষণার লক্ষ্য কেবল গবেষণাপত্র প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং উদ্ভাবিত প্রযুক্তি কৃষকের ব্যবহার উপযোগী করে মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর মূল উদ্দেশ্য।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *