ফজলুর রহমান,পীরগাছা(রংপুর):
রংপুরের পীরগাছার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ। এ যেন হেমন্ত বাতাসে আমন ধানের সবুজ ঢেউ উপজেলার কৃষকদের মন ভরিয়ে দিচ্ছে। ঢেউয়ের মতো খেলে যাচ্ছে ধান গাছের সবুজপাতা ও কাঁচা শীষ। এমন সবুজ সমুদ্রের ঢেউয়ে দুলে উঠছে প্রকৃতি। এ যেন রোপা আমন ধানের শীষে দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন।
কৃষি বিভাগের দাবি, অনুকূল আবহাওয়া, কৃষকের নিবিড় পরিচর্যা, যথা সময়ে জমিতে সার ও কীটনাশক প্রয়োগের কারণে এবার আমন চাষের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ। ফলে মাঠে দোল খাওয়া সবুজ ধানে নতুন স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ মৌসুমে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ২০ হাজার ৫শ ৪৭ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৭ হাজার ২ শ ৭২ মেট্রিকটন।
এবার উপজেলায় উচ্চ ফলনশীল ব্রিধান-৪৯, ব্রিধান-৯৫, ব্রিধান-১০৩, বিনা-১৭, স্বর্ণা-৫ সহ বিভিন্ন জাতের আমন ধান চাষ করা হচ্ছে। এছাড়াও উপজেলার ৯ ইউনিয়নের রাজস্ব খাতে ৪০ প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে এবং ৪ হাজার কৃৃষককে কৃষি প্রণোদনা হিসেবে ধান বীজ ও সার দেয়া হয়েছে।
আর কদিন পরেই সোনালি ধানের শীষে ঝলমল করবে মাঠের পর মাঠ। মাঠ ভরা ফসলের স্বপ্ন দেখে কৃষকদের চোখে মুখে ফুটে উঠবে আনন্দের ছোঁয়া। রাশি রাশি সোনালি ধানে ভরে উঠবে কৃষাণীর শূন্য গোলা। আমন মৌসুমকে ঘিরেই এমন স্বপ্ন দেখছে উপজেলার কৃষকরা।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি এ মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের কিশামত ছাওলা গ্রামে গেলে দেখা যায়, রোপা আমন ধানের মাঠে সবুজের সমারোহ। প্রতিটি ধানের ক্ষেতে দুলছে সবুজপাতা। ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটছে কৃষকের। কৃষকরা মাঠে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধান গাছের পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
স্থানীয় কৃষক আব্দুর করিম জানান, কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও পরামর্শে চাষাবাদকৃত আমন ধান গতবারের চেয়ে এবার ভালো হয়েছে। আগামী মাসের শেষের দিকে ধান কাটা শুরু হবে। তখন পূরণ হবে আমাদের স্বপ্ন।
উপজেলার রহমতচর গ্রামের কৃষক আবু বক্কার সিদ্দিক, বেলাল মিয়া ও আব্দুর রহিমসহ অনেকেই জানান, এ বছর ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা। কোনো ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে বিগত বছরের তুলনায় এবার তারা ভালো ফলন ঘরে তুলতে পারবেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা সঞ্জয় সরকার এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, রোগবালাই দমনে বিভিন্ন ধরনের সঠিক পরামর্শসহ লিফলেট বিতরণ, উঠান বৈঠক, কৃষক সমাবেশ, স্পট মিটিং করা হচ্ছে। ধানের গাছ ভাল হয়েছে শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া ভাল থাকলে ধানের ভালো ফলন হবে বলে আশা করছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াছমীন বলেন, রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। তাই আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছি।স
উপজেলার নজিপুর ইউনিয়নের পদ্মপুকুর গ্রামের কৃষক মো. আ. সামাদ (২৮) জানান, তিনি এবার প্রায় ৩ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করছেন। তবে একাধিক কৃষক জানান এবার সার শঙ্কট হয়েছে বেশী দামে সার কিনতে হয়েছে। এবার বাড়তি খরচ হয়েছে তাই লাভ থাকবে না।