বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ চন্দন সূত্রধর রাজ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
চন্দনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান।
সহপাঠী ও সহযোদ্ধাদের অভিযোগ, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও আর্থিক সংকট ও প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ায় দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়ে ভোগান্তিতে ছিলেন চন্দন। মাথায় বুলেটের আঘাত নিয়ে শারীরিক কষ্ট সহ্য করেই দিন কাটাতে হয়েছে তাঁকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই যোদ্ধা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সোহাগ চন্দনের মৃত্যুকে উল্লেখ করে লেখেন, ‘বেরোবির দ্বিতীয় শহীদ চন্দন সূত্রধর রাজ।’
চন্দনের চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একাধিকবার সহায়তা চেয়েও আশ্বাস ছাড়া কিছু পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন সোহাগ। তাঁর দাবি, মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণে চন্দনের মাথার খুলির ভেতরে পুঁজ জমেছিল। এ ছাড়া প্রায়ই তাঁর কান দিয়ে তরল পদার্থ বের হতো।
সোহাগ আরও জানান, জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ চন্দন গেজেটভুক্ত হওয়ার জন্য রংপুর ও মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে নানা কারণে তাঁর গেজেটভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। এর মধ্যে টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠতে না উঠতেই আবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী ও জুলাই যোদ্ধা আহমেদুল হক আলবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চন্দনকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে লেখেন, চন্দন ছিলেন অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও পরোপকারী। জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গেজেটভুক্ত না হওয়ায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারেননি তিনি। মাথায় বুলেট নিয়ে দীর্ঘদিন কষ্ট সহ্য করেছেন চন্দন।
চন্দনের আরেক সহপাঠী আল হুমায়রা জান্নাতি ঐশী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্মৃতিচারণ করে লেখেন, চন্দন ছিলেন তাঁদের কাছের একজন সহপাঠী। মাঝেমধ্যে অসুস্থ থাকায় ক্লাস মিস করতেন তিনি। বাড়ি থেকে দূরে থাকায় চন্দনকে নিয়ে তাঁর পরিবারও চিন্তিত থাকত।
ঐশী লেখেন, ‘যতদিন রংপুরে আছিস, আমরা তো আছিই রে।’ চন্দনের সাথে রাস্তায় হওয়া শেষ কথোপকথনের স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি। ঐশী লেখেন, মানুষটির সাথে সেটিই যে শেষ কথা হবে, তা কখনো ভাবেননি।