বাকৃবি প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের স্মরণে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে ওই স্মরণসভা আয়োজিত হয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ স্মরণসভায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান। সঞ্চালনা করেন শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. শফিকুল ইসলাম এবং সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক এ. এম. শোয়াইব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. রফিকুল ইসলাম সর্দার, বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সোনালী দলের সভাপতি ড. আলি রেজা ফারুক, সাধারণ সম্পাদক ড. আহমেদ খায়রুল হাসান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম এবং সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. সোনিয়া সেহেলী।
স্মরণসভায় বক্তারা জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিহতদের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তারা বলেন, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও ন্যায়বিচারের চেতনাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, ইতিহাসের এই আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য অনুপ্রাণিত করবে। শহীদদের আদর্শ ও ত্যাগকে জাতীয় জীবনে যথাযথ মর্যাদায় ধারণ করার ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানজুড়ে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. রফিকুল ইসলাম সর্দার বলেন, গতবার যখন এই অনুষ্ঠানে এসেছিলাম তখনকার থেকে এখন ছাত্রদলের সমর্থকের উপস্থিতি অনেক বেড়েছে। আমি আশা রাখি এভাবেই সংগঠনে শুভাকাঙ্খীর পরিমাণ বাড়বে। আমি চাই জাতীয়বাদী আদর্শকে ধারণ করে তোমরা সবাই স্বচ্ছভাবে দল পরিচালনা করো। দলের সকল নেতা, কর্মী সমর্থকদের মাঝে যেনো ঐক্য ভ্রাতৃত্ব বজায় থাকে এবং আমাদের দলের কার্যক্রম একটি উত্তম উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপিত হয়।
সোনালী দলের সাধারণ সম্পাদক ড. আহমেদ খায়রুল হাসান বলেন, ‘শিক্ষা ঐক্য প্রগতি’ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এইযে মূলনীতি এটা তোমাদের সকলকে বুঝতে হবে। সংগঠনের মূল চরিত্রকে তোমরা ফুটিয়ে তোলো। আমি চাই ক্লাসের সব থেকে মেধাবী ছেলেটা বা মেয়েটা ছাত্রদল করবে, হলের সব থেকে স্মার্ট ছেলে বা মেয়েটি ছাত্রদল করবে। তোমাকে দেখে যেনো অন্যরা ছাত্রদল করার জন্য অনুপ্রাণিত হয়। ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যকে ধারণ করে সংগঠনের কার্যক্রম এগিয়ে যাক এইটাও কামনা করছি
এসময় সোনালী দলের সভাপতি ড. আলি রেজা ফারুক বলেন, শিক্ষার্থীরা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আদর্শকে ধারণ করবে এবং ন্যায়ের পথে সংগ্রাম করবে এইটাই চাওয়া। ক্লাসের সব থেকে চঞ্চল শিক্ষার্থীটি ছাত্রদল করুক। এটা আমরা কখনো চাইনা যে যারা পড়াশুনা করে না, শুধু রাজনীতি করতে চায় এবং পরীক্ষার আগে আমাদের সাথে যোগাযোগ করে যেনো তাকে একটু পাশ করিয়ে দেয়া হয়। আগে পড়াশুনা করতে হবে তার পাশাপাশি কেউ চাইলে রাজনীতি করবে।
বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান বলেন, এই অনুষ্টানে সকলে একত্র করতে আমার এবং আমার সহযোগীদের কতটা কষ্ট করতে হয়েছে এটা হয়তো বলে প্রকাশ করা সম্ভব হবে না। আমার শুধু আমাদের প্রশাসনের কাছে একটাই চাওয়া যে আপনারা আমাদের ভালো নাই বাসতে পারেন কিন্তু একটু জানতে চাবেন যে আমরা ভালো আছি কিনা, আমাদের সমর্থকেরা ভালো আছে কিনা, যাদের আশ্রয়ে আমরা স্বৈরাচার আমলে ছিলাম তারা ভালো আছে কিনা। ছাত্রদলের যে মেধাবী শিক্ষার্থী ৭ শতাংশের মধ্যে জায়গা করে নেয় সে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হচ্ছে কি না। এসকল বিষয়ে তদারকি করবেন আমরা আশা করি।