মোঃ ফাহিম,পবিপ্রবি প্রতিনিধি:
৩৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ইতিহাস, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণে প্রদর্শনী বিতর্কের আয়োজন করেছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং ক্লাব (পিএসটিইউডিসি)।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যানিমেল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের অডিটোরিয়ামে এ প্রদর্শনী বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ।
প্রদর্শনী বিতর্কের বিষয় ছিল, “এই সংসদ বিশ্বাস করে, ৩৬ জুলাইয়ের ঘটনাবলি জাতীয় শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।” বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিপক্ষ দল যুক্তি, তথ্য এবং বিশ্লেষণ উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রাণবন্ত বিতর্কে অংশ নেয়। দীর্ঘ যুক্তি-প্রতিযুক্তির পর বিচারকদের রায়ে বিপক্ষ দল বিজয়ী হয়। একই সঙ্গে সেরা বিতার্কিক নির্বাচিত হন ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিপক্ষ দলের সদস্য কানিজ ফাতেমা ।
সরকারি দলে বিতর্ক করেন মো. শাহরিয়ার হোসাইন মিরাজ, শাহাদাত হোসাইন ও সুমাইয়া আমিন। অন্যদিকে বিপক্ষ দলে ছিলেন শাহরিয়ার ইসলাম রাফি, মাসুদা আক্তার রিফা এবং কানিজ ফাতেমা। প্রতিযোগিতার বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওলজি ও ফার্মাকলোজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আলী আজগর ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত এএনএসভিএম অনুষদের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হুজাইফা আখন্দ সাদ বলেন, “এ ধরনের প্রদর্শনী বিতর্ক আমাদের ইতিহাসকে নতুনভাবে ভাবতে এবং বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করতে শেখায়। শিক্ষার্থীদের যুক্তিভিত্তিক চিন্তা ও মত প্রকাশের দক্ষতা বিকাশে এমন আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
পবিপ্রবি ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি শাহরিয়ার হোসাইন মিরাজ বলেন, “৩৬ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান আমাদের জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এর ইতিহাস, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করার লক্ষ্যেই আমরা এ প্রদর্শনী বিতর্কের আয়োজন করেছি। বিতর্কের মাধ্যমে ভিন্নমতকে সম্মান জানিয়ে যুক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে আলোচনা করার সংস্কৃতি গড়ে তোলাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতেও জাতীয় ও সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে পবিপ্রবি ডিবেটিং ক্লাব এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখবে।”
তিনি আরও বলেন, “পবিপ্রবি ডিবেটিং ক্লাব শুধু বিতর্কচর্চার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সমসাময়িক জাতীয় ও সামাজিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে শিক্ষার্থীদের যুক্তিবাদী, বিশ্লেষণধর্মী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে নিয়মিত বিভিন্ন আয়োজন করে থাকে।”
আয়োজকদের মতে, ৩৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসকে ঘিরে এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইতিহাসচর্চা, মুক্তচিন্তা ও যুক্তিনির্ভর মতবিনিময়ের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।