নিজস্ব প্রতিবেক:
আষাঢ় মাসের অর্ধেক পেরিয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা না মেলায় বরিশাল বিভাগের কৃষি কার্যক্রম চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে আউশ ও রোপা আমন ধানের বীজতলা প্রস্তুত করতে না পারায় কৃষকদের মধ্যে উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় মোট ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৪৭৯ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ হেক্টরে আউশ এবং ৭ লাখ ৭৪৩ হেক্টরে রোপা আমন আবাদ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সাধারণত জ্যৈষ্ঠ মাসেই বীজতলা তৈরির কাজ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এ বছর মৌসুমি বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কম হওয়ায় অধিকাংশ জমি শুকিয়ে রয়েছে। ফলে কৃষকরা সময়মতো বীজতলা প্রস্তুত করতে পারছেন না।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৪৯ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। এপ্রিলে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলেও মে মাসে আবার ৪৫ দশমিক ৩ শতাংশ ঘাটতি দেখা দেয়। আষাঢ় মাসেও প্রত্যাশিত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার কৃষকরা জানান, জমিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা না থাকায় বীজতলা তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার এক কৃষক বলেন, নদী ও খালের পাড়ে সীমিত আকারে বীজতলা তৈরি করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অন্যদিকে বরিশাল সদর উপজেলার কৃষকদের মতে, কোথাও কোথাও সেচের মাধ্যমে বীজতলা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে, তবে এতে ব্যয় বাড়ছে এবং কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না।
পিরোজপুরের কৃষকরাও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ে বীজতলা প্রস্তুত না হলে রোপা আমন চাষ ব্যাহত হবে এবং ধানের উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এখনই পরিস্থিতিকে সংকটজনক হিসেবে দেখছে না। বরিশাল অঞ্চলের উপপরিচালক মরিয়ম বেগম বলেন, বৃষ্টিপাত কিছুটা কম হলেও বীজতলা তৈরির সময় এখনো শেষ হয়নি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত শুরু হলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আবাদ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত দক্ষিণাঞ্চলের কৃষির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সময়োপযোগী সেচব্যবস্থা, উন্নত পানি ব্যবস্থাপনা এবং আবহাওয়াভিত্তিক কৃষি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।