সিটি রিপোর্টার:
রংপুর নগরীর বাসা-বাড়িতে বসানো প্রিপেইড মিটার অবিলম্বে অপসারণ করে পুনরায় পুরনো ডিজিটাল মিটার পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর আদালত চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে সংগঠনের নেতারা এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ।
তিনি বলেন, “প্রিপেইড মিটারের দুঃসহ বোঝা জনগণ আর বহন করতে পারছে না। নতুন করে আর কোনো বাসা-বাড়িতে শোষণ ও হয়রানির এই যন্ত্র স্থাপন করা চলবে না। জনগণের অভিযোগ ও অসন্তোষ আমলে নিয়ে সরকারকে এই প্রিপেইড মিটার বাতিলে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২২ জুলাই নগরীর বাসাবাড়িতে প্রিপেইড মিটার প্রতিস্থাপনের কার্যক্রমকে অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করার আবেদন জানিয়ে জেলা প্রশাসকসহ বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা নেসকোর ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।
রোববার মামলাটির শুনানির দিন ধার্য থাকলেও বিবাদীদের ওপর সমন জারি না হওয়ায় আদালত পরবর্তী দিন ধার্য করেন। শুনানির পর আদালত চত্বরেই সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন ভুক্তভোগী গ্রাহক ও নাগরিক কমিটির নেতারা।
আদালতের সমন জারির দায়িত্বে নিয়োজিত জারিকারকদের কর্তব্য কাজে অবহেলার সমালোচনা করে এই জনগুরুত্বপূর্ণ মামলায় গাফিলতির জন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলন থেকে গণবিরোধী প্রিপেইড মিটার বাতিল, বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ, বিদ্যুতের দাম কমানো, বিদ্যুৎ খাত বেসরকারিকরণের তৎপরতা বন্ধ এবং গ্রাহকদের বিরুদ্ধে করা হয়রানিমূলক ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
দাবি আদায়ে আগামীতে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের গণস্বাক্ষর সংগ্রহ এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচিসহ ধারাবাহিক আন্দোলনের ঘোষণা দেন কমিটির নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য আব্দুল জব্বার সরকার, এ বি এম মসিউর রহমান, বিজয় প্রসাদ তপু, মাহাবুব আলম, সবুজ রায়, সানজিদা আক্তার প্রমুখ।