কোরবানির পশু জবাইয়ের আগে–পরে জু‌নো‌টিক রো‌গের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে করণীয়

অধ্যাপক মো. মাহবুব আলম :

আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। পছন্দের পশু কেনার জন্য হাটে ভিড় করছেন ক্রেতারা। প্রিয় পশুটি বেছে নেওয়ার পর নানা প্রস্তুতি নিয়ে সেটিকে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন তারা। তবে কোরবানির পশুর সঠিক ব্যবস্থাপনা না হলে জুনোটিক অর্থাৎ প্রাণী থেকে মানুষে সংক্রামক রোগ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, অসচেতনতা এবং অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে বিভিন্ন জীবাণু সহজেই মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

এ বিষয়ে করণীয় নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের মেডিসিন বিভাগের গবেষক ও অধ্যাপক ড. মো. মাহবুব আলম।

অধ্যাপক ড মাহবুব আলম বলেন, কোরবানীর জন‌্য প্রথ‌মে সুস্থ ও রোগমুক্ত পশু নির্বাচন করতে হবে। পশুর শরীরে ঘা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, জ্বর, কাশি, নাক বা মুখ দিয়ে অস্বাভাবিক তরল নির্গমন ইত্যাদি লক্ষণ থাকলে সেই পশু কোরবানির জন্য গ্রহণ করা উচিত নয়। এরপর হাট থেকে বা‌ড়ি‌তে পশু এনে প্রথমেই তাকে ভালোভাবে গোসল করাতে হবে, যাতে সংক্রামকের ঝুকি ক‌মে । এছাড়া পশুকে অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার (যেমন ভাত বা জাউ) খাওয়ানো যাবে না। এতে প্রাণীর মারাত্মক অ্যাসিডোসিস হয়ে মৃত্যুঝুঁকি থাকে।

এই জন্য পশুকে পরিমাণমতো কাঁচা ঘাস, পর্যাপ্ত পানি ও আরামদায়ক বিশ্রামের জায়গা দিতে হবে। পাশাপাশি পশুকে সুস্থ ও সবল রাখতে দৈহিক ওজনের প্রায় ১ শতাংশ পরিমাণ দানাদার খাদ্য দেওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, জবাইয়ের সময়ে যাতে অপ্রয়োজনীয় কষ্ট না হয়, সেজন্য জীবাণুমক্ত ধারালো ছুরি ব্যবহার করা জরুরি। প্রাণী সম্পূর্ণ নিস্তেজ হওয়ার পরই চামড়া ছাড়াতে হবে। জবাইয়ের আগে পর্যাপ্ত পানি পান করালে চামড়া ছাড়াতে সুবিধা হয়। এছাড়া সুস্বাদু মাংস পেতে হলে প্রাণীর রক্ত পুরোপুরি বের হওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় দিতে হবে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিষ‌য়ে অধ‌্যাপক ড. মাহবুব আলম জানান, জবাইয়ের পর বর্জ্য অবশ্যই গভীর গর্তে পুঁতে ফেলতে হবে এবং গর্তের ওপর চুন ও ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে পরিবেশগত ঝুঁকি কমাতে হবে। তা না হলে অ্যানথ্রাক্স, ব্রুসেলোসিস, সাল‌মো‌নে‌লো‌সিস ও টিউবারকুলোসিসসহ নানা জুনোটিক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া মাংস কাটার সময় মাস্ক ও হাতমোজা ব্যবহার  কর‌তে হ‌বে। যা‌তে জু‌নো‌টিক জীবাণুর স্পোর শরীরে প্রবেশ করতে না পারে । দেহে কোনো ক্ষত থাকলে সেটি যাতে সংক্রমিত পশুর রক্ত বা মাংসের সংস্পর্শে না আসে, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে। সর্বশেষ মাংস কাটার পর সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কারভাবে ধুয়ে নিতে হবে। এছাড়া পশুর মাংসে ক্ষ‌তিকর পরজীবী ও ব‌্যাক‌টে‌রিয়া থাকতে পারে, তাই মাংস ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে। 

তি‌নি আরও ব‌লেন , মাংস কাটা শে‌ষে জবাই‌য়ের স্থান ও সংঞ্জাম জীবাণু মুক্ত কর‌তে হ‌বে। পশুর উ‌চ্ছিষ্ট অংশ যা‌তে কুকুর বা বন্য প্রাণী খে‌তে না পা‌রে সে‌দিকও নজর দি‌তে হ‌বে। 

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *