আদালতের ডিক্রির পরপীরগাছায় পাচুলিয়া ঈদগাহ মাঠের জমির সীমানা নির্ধারণ

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের পীরগাছায় কান্দি ইউনিয়নের পাচুলিয়া ঈদগাহ মাঠের নামে রেকর্ডভুক্ত ১ একর ৪৮ শতক জমির সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। আদালতের ঘোষণামূলক ডিক্রির ভিত্তিতে আমিনের মাধ্যমে জমিটি পরিমাপ শেষে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সীমানা নির্ধারণ করা হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন ও ঈদগাহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ঈদগাহ কমিটির সদস্য আব্দুল মজিদ জানান, ব্রিটিশ আমলের রেকর্ডে জমিটি সতীশচন্দ্র ও সেবায় চন্দ্র রায়ের নামে ঈদগাহ মাঠ হিসেবে উল্লেখ ছিল। পরবর্তীতে ১৯৪০ সালের একটি সিএস রেকর্ডে জমিটি নসিরুদ্দিনের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। এ নিয়ে আইনি জটিলতা দেখা দিলে ১৯৬২ সালের রেকর্ডে পুনরায় ১ একর ৪৮ শতক জমি পাচুলিয়া ঈদগাহ মাঠের নামে রেকর্ডভুক্ত করা হয়। বর্তমান আরএস রেকর্ডেও জমিটি ঈদগাহ মাঠের নামে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
জমির মালিকানা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা ও বিভ্রান্তি থাকায় বিষয়টি স্পষ্ট করতে আদালতে ঘোষণামূলক ডিক্রির জন্য মামলা করা হয়। পরে আদালত জমিটি পাচুলিয়া ঈদগাহ মাঠের নামে থাকার বিষয়ে ঘোষণামূলক ডিক্রি দেন।
ঈদগাহ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আদালতের ডিক্রি অনুযায়ী ১ একর ৪৮ শতক জমি কোনো ধরনের বন্ধক, বিক্রি, হস্তান্তর বা রদবদল করা যাবে না। জমিটি পাচুলিয়া ঈদগাহ মাঠের স্বার্থে সংরক্ষিত থাকবে এবং মাঠ কর্তৃপক্ষের দখল ও ব্যবস্থাপনায় থাকবে।
আব্দুল মজিদ বলেন, “জনগণের মধ্যে জমিটি নিয়ে নানা ধরনের কথা ছিল। কেউ বলছিল এটি ঈদগাহ মাঠের নামে, আবার কেউ অন্যের মালিকানার কথা বলছিল। আদালতের ঘোষণামূলক ডিক্রির মাধ্যমে বিষয়টি এখন স্পষ্ট হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ২০২৩ সালের ২২ মে সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, পীরগাছার আদেশের ভিত্তিতে ডিক্রি পাওয়া গেলেও সম্প্রতি আমিনের মাধ্যমে জমিটি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। সীমানা নির্ধারণের সময় কোনো বাধা বা সমস্যা হয়নি বলেও তিনি জানান।
ঈদগাহ কমিটির দাবি, ১ একর ৪৮ শতক জমির মধ্যে প্রায় ১ একর জমি আবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তি দখল করে ভোগ করছিলেন। সিএস রেকর্ডে তাঁর পিতার নামে জমি থাকার দাবি করে তিনি মালিকানা দাবি করেন। এ দাবির ভিত্তিতে আবুল হোসেন বাদী হয়ে সহকারী জজ আদালত, পীরগাছায় মামলা করেন। মামলাটি ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আদালত খারিজ করে দেন বলে ঈদগাহ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
জমি পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণকারী আমিন নাজমুল ইসলাম বলেন, “১৯৬২ সালের রেকর্ড ও বর্তমান আরএস রেকর্ডের ভিত্তিতে জমিটি মাপজোক করে সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।”
দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর পর আদালতের ঘোষণামূলক ডিক্রি পাওয়ার পর জমিটির সীমানা নির্ধারণ হওয়ায় আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তব্য দেন পাচুলিয়া ঈদগাহ মাঠের সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, স্থানীয় আসাদুজ্জামান ও আব্দুল জলিল।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *