মাদক ও নেশাদ্রব্যের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইমামদের ভূমিকা

খতিবদের প্রতি সচেতন মহলের আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সমাজে মাদক ও নেশাদ্রব্যের ভয়াবহ বিস্তার রোধে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করে স্থানীয় সচেতন মহল খতিবদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন জামে মসজিদের খতিবদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক লিখিত আবেদনে বলা হয়েছে, বাজার ও আশেপাশের কিছু দোকানে প্রকাশ্যে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর নেশাদ্রব্য বিক্রি হচ্ছে, যা যুব সমাজের নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, “টাচ”, “দুই ঘোড়া” ইত্যাদি নামে পরিচিত কিছু পণ্য খুব সহজেই তরুণদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে। এসব দ্রব্য কৃত্রিম যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয় এবং এর অপব্যবহারের ফলে সমাজে অশ্লীলতা, অপরাধ প্রবণতা ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ বৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়ছে।

এছাড়াও কিছু ঔষধের দোকানে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই কম দামের বিভিন্ন ঘুমের ওষুধ ও সিরাপ অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, এসব সহজলভ্য নেশাজাতীয় পণ্য তরুণদের বিপথগামী করছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে উঠছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, শুধুমাত্র আইনের ওপর নির্ভর করে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করার মাধ্যমে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে সমাজের সচেতন মানুষ, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা ও সর্বস্তরের জনগণকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

খতিবদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, জুমার খুতবা ও বিভিন্ন ধর্মীয় আলোচনায় মাদক ও নেশাদ্রব্যের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে জনগণকে সচেতন করতে হবে এবং সমাজকে এই ধ্বংসাত্মক প্রবণতার বিরুদ্ধে সোচ্চার করতে হবে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, ধর্মীয় নেতাদের ইতিবাচক ভূমিকা যুব সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *