বৃক্ষরোপণেই মিলবে নম্বর, হাবিপ্রবিতে মার্কেটিং বিভাগের অভিনব অ্যাসাইনমেন্ট

হাবিপ্রবি প্রতিনিধি :

শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক ও পরিবেশগত দায়বদ্ধতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) মার্কেটিং বিভাগ। বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. ইউসুফ ঈদুল আজহার ছুটিতে শিক্ষার্থীদের জন্য অভিনব একটি অ্যাসাইনমেন্ট নির্ধারণ করেছেন। এই অ্যাসাইনমেন্টের অংশ হিসেবে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি করে বৃক্ষরোপণ করতে হবে।

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মার্কেটিং বিভাগের ২৪তম ও ২৫তম ব্যাচের প্রায় ১১০ জন শিক্ষার্থীকে ছুটিকালীন অ্যাসাইনমেন্ট হিসেবে একটি করে গাছ লাগানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত এই কাজ সম্পন্ন করে প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারলে একজন শিক্ষার্থী ১ নম্বর অর্জন করবে।

এ বিষয়ে মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. ইউসুফ বলেন, “আমি মনে করি, একজন শিক্ষার্থীর অর্জিত নম্বরের একটি ইতিবাচক প্রভাব সমাজ ও দেশের ওপর পড়া উচিত। আমরা পড়াশোনা করি মূলত জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য। বর্তমান বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে যদি প্রতিটি শিক্ষার্থী অন্তত একটি করে গাছ লাগায়, তাহলে এর সম্মিলিত প্রভাব ভবিষ্যতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্র্যাজুয়েশনের সঙ্গে বৃক্ষরোপণকে যুক্ত করার ধারণা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শিক্ষা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের জন্য নয়, সমাজ ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরিরও একটি মাধ্যম। তাই গ্র্যাজুয়েশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের সঙ্গে বৃক্ষরোপণকে যুক্ত করা সময়োপযোগী ও অর্থবহ উদ্যোগ হতে পারে।”

উদ্যোগটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন শিক্ষার্থীরাও। মার্কেটিং বিভাগের ২৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাসেল রায় বলেন, “এর আগে গাছ লাগানোর অভিজ্ঞতা থাকলেও এবার অনুভূতিটা ভিন্ন ছিল। কারণ এটি শুধু ব্যক্তিগতভাবে গাছ লাগানো নয়, বরং আমাদের ২৪ ও ২৫ ব্যাচের সবাই মিলে একটি ভালো উদ্যোগের অংশ হওয়া। ভাবতে ভালো লাগে যে আমরা সবাই মিলে পরিবেশের জন্য ছোট হলেও একটি ইতিবাচক কাজ করেছি।”

২৫তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বলেন, “এই অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শুধু গাছের গুরুত্ব সম্পর্কে জানিনি, নিজের হাতে একটি চারা রোপণ করে এক ধরনের আনন্দ ও তৃপ্তিও অনুভব করেছি। ছোট্ট এই গাছটি বড় হয়ে পরিবেশের উপকার করবে, এই ভাবনাটিই সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। একই সঙ্গে এটি আমাকে প্রকৃতির আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে এবং পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ বাড়িয়েছে।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় কেবল শিক্ষিত জনশক্তি তৈরির প্রতিষ্ঠান নয়; মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও পরিবেশ সচেতনতা বিকাশেরও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। হাবিপ্রবির মার্কেটিং বিভাগের এই উদ্যোগ সেই দর্শনেরই একটি বাস্তব প্রতিফলন। তারা মনে করেন, এ ধরনের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা ও সমাজমুখী মানসিকতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *