বাকৃবি বিশেষ সংবাদদাতা:
ঊনত্রিশের আহ্বান, রক্তদানে বাঁচুক প্রাণ স্লোগান নিয়ে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন বাঁধনের ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) জোনাল পরিষদ।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় ২৯ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষ্যে আনন্দ র্যালী অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিনি কনফারেন্স রুমে কেক কাটা ও আলোচনা সভার মাধ্যমে দিবস উদযাপন সম্পন্ন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক জি এম মুজিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম এবং সহযোগী ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম।
প্রধান অতিথি ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক জি এম মুজিবুর রহমান বলেন,”আমরা সবাই জানি, একজন সুস্থ মানুষের প্রতি ৩ থেকে ৪ মাস অন্তর নিয়মিত রক্তদান করা উচিত। এই মহৎ উদ্যোগটিকে সামনে রেখেই আজকের এই বিশেষ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়েছে। আজকের অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, ছাত্রদের তুলনায় আমাদের নারী সমাজ বা ছাত্রীরা অনেক বেশি এগিয়ে এসেছে এবং তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই আজকের এই অনুষ্ঠানটি সফল হয়ে উঠেছে। রক্তদানের মতো এই মহান ও মানবকল্যাণমূলক কাজে আমাদের সকলেরই এগিয়ে আসা উচিত, কারণ আপনার এক ফোঁটা রক্ত বাঁচাতে পারে একটি মুমূর্ষু প্রাণ।”
প্রথমবার রক্তদান কারী আবির বলেন,” পৃথিবীতে যত মহৎ কাজ আছে তার মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে রক্তদান করা। দরকারি মুহুর্তে এক ব্যাগ রক্ত একটা পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পারে। আমি নিজে চেষ্টা করব নিয়মিত রক্ত দেয়ার এবং সকলকে অনুরোধ করব আপনারাও নিয়মিত রক্ত দিয়ে দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াবেন।”
বাঁধন ফজলুল হক হলের সহ সাধারণ সম্পাদক তকি তাহমিদ উদয় বলেন,” বাঁধন করার মাধ্যমে আমি নিজেকে একটা মহৎ কাজের সঙ্গি করতে পেরে আসলেই গর্বিত। নিজে রক্ত দেয়ার পাশাপাশি রক্ত ম্যানেজ করে দিয়ে যখন একটা পরিবারের মুখে হাসি দেখি তখন আমার ব্যায় করা সময় সার্থক মনে হয়।”
সমাপনী বক্তব্যে বাঁধন বাকৃবি জোনাল পরিষদের সভাপতি রেদুয়ান হাসান সাব্বির বলেন,”শুরু থেকেই বাঁধন কোনো মুমূর্ষু রোগীর রক্তের প্রয়োজনে কিংবা দুর্যোগে আর্তপীড়িতদের সেবায় নির্ভীকভাবে আত্মনিয়োগ করে আসছে। আমাদের তরুণ স্বেচ্ছাসেবী ও রক্তদাতাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ এবং কঠোর পরিশ্রমই আজ বাঁধনকে মানবতার এক নির্ভরযোগ্য প্রতীকে পরিণত করেছে। রক্তের বন্ধনে গড়া আমাদের এই মেলবন্ধন আগামী দিনেও প্রতিটি মানুষের বিপদে আলোর দিশারী হয়ে টিকে থাকবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।”