নিজস্ব প্রতিবেদক:
রংপুর নগরীতে শিক্ষক পরিবারের চারজন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। আদালতের আদেশ অনুযায়ী রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে যান মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) তিন সদস্যের একটি দল। এদের মধ্যে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী, উপপরিদর্শক মমিনুল ইসলাম ও আবু সাঈদ বাবলা ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস) তোফায়েল আহমেদ।
এদিন বিকেলে আরপিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আলোচিত ফোর মার্ডার নিয়ে আমরা মেট্রোপলিটন পুলিশ কাজ করে যাচ্ছি। আমরা আশা করি, এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দ্বারপ্রান্তে আছি। যেহেতু এটি একটি তদন্তাধীন, তাই এখানে কোনো তথ্য গোপন করার বিষয় নাই।
তিনি আরও বলেন, আসামিদের আজ জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি, এটি অব্যাহত থাকবে। এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে এ মামলার নিষ্পত্তি করব ইনশাআল্লাহ।
এর আগে, সোমবার (৩১ আগস্ট) আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে ডোপ টেস্টে তাদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে জানায় পুলিশ। যদিও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ভাষ্য, দেরিতে ডোপটেস্ট করায় এমন ফল এসেছে।
একই দিন বিকেলে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশ। তবে রংপুরের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম ২ দিন ৩ ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।
গতকাল বিকেলে আরপিএমপির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানিয়েছে, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পরও বেশ কিছু নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই এবং নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের পর অধিকতর তদন্তের জন্য সোমবার ৩ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, রিমান্ড আবেদনের শুনানিতে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়নি। তাদের পক্ষে লিগ্যাল এইডের আইনজীবীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানিতে যুক্ত ছিলেন। শুনানি শেষে আদালত ২ দিন ৩ ঘণ্টা করে জেলগেটে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।
এদিকে, একটি বেসরকারি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শিক্ষক পরিবারের ৪ জনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশ নতুন তথ্য পেয়েছে বলেও জানিয়েছে সনাতন চক্রবর্তী।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের মধ্যে ঘটনার আগে এবং পরে অনেকবার কথা হয়েছে। ৮০ ঘণ্টায় ৮০ বার কথা বলেছে তারা। এর অর্থ ঘটনার আগে এবং পরে প্রতি ঘণ্টায় একবার; যা অস্বাভাবিক এবং এ কারণে হত্যার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত বলে হতে পারে।
উল্লেখ্য যে, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকায় তালাবদ্ধ একটি বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় একই এলাকা থেকে প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। মামলাটি বর্তমানে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত করছে।