বাকৃবি প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের এনিমেল ওয়েলফেয়ার ল্যাবের পাঁচ শিক্ষার্থী ভারতের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর অ্যাপ্লাইড এথোলজি (আইএসএই) আয়োজিত ৫৯তম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রাণিকল্যাণ বিষয়ে তারা পৃথকভাবে একটি করে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করবেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকৃবির মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও এনিমেল ওয়েলফেয়ার ল্যাবের প্রধান অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম।
ভারতের উত্তরপ্রদেশের নয়ডা অঞ্চলের গৌতম বুদ্ধ ইউনিভার্সিটিতে পাঁচ দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সোমবার (১০ আগস্ট) শুরু হওয়া সম্মেলনটি চলবে আগামী ১৪ আগস্ট পর্যন্ত। এতে বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশের ১২৩ জন আন্তর্জাতিক ডেলিগেট অংশ নিচ্ছেন।
সম্মেলনে প্রাণিকল্যাণ, প্রাণীর আচরণ এবং এ-সংশ্লিষ্ট গবেষণার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষক, শিক্ষক ও পেশাজীবীরা অংশ নিচ্ছেন। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ‘শেয়ারড ওয়ার্ল্ডস : এথোলজি ড্রিভেন অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড কোএক্সিস্টেন্স’।
সম্মেলনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্বকারী শিক্ষার্থীরা হলেন ড. সোলেমা আক্তার শান্তা, ডা. সিয়াম আহমেদ, ডা. আশিকুর রহমান কৌশিক, ডা. তাসনিম বিনতে হাসান ও ডা. তাজিন খন্দকার। তারা প্রত্যেকে প্রাণিকল্যাণ বিষয়ে একটি করে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করবেন। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে বাকৃবির পক্ষ থেকে মোট পাঁচটি গবেষণাপত্র উপস্থাপিত হবে।
দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও এনিমেল ওয়েলফেয়ার ল্যাবের প্রধান অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম। তিনি গবেষণাপত্রগুলোর করেসপন্ডিং অথর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
দলের সদস্য ডা. আশিকুর রহমান কৌশিক বলেন, এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১২৩ জন আন্তর্জাতিক ডেলিগেট এখানে অংশ নিচ্ছেন। এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।
তিনি আরও বলেন, প্রাণিকল্যাণ বিষয়ে বিশ্বমানের গবেষণা, নতুন প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানার এই সুযোগ আমার জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে একজন বিশ্বমানের গবেষক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে এটি আমাকে অনুপ্রাণিত করবে।
সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য দলটির সদস্যরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে রেজিস্ট্রেশন ফি ও ট্রাভেল গ্র্যান্ট পেয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে এ ধরনের সহায়তা পাওয়া তাদের গবেষণার মান, সম্ভাবনা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার একটি ইতিবাচক দিক তুলে ধরে।বিশ্বব্যাপী প্রাণিকল্যাণ বিষয়ক গবেষক, শিক্ষক ও পেশাজীবীদের অন্যতম বৃহৎ এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাকৃবির গবেষণা কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও দৃশ্যমান হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।