হাবিপ্রবির বিজয়-২৪ হলে শিক্ষার্থীদের পাঁচ অভিযোগ, জবাবে যা বললেন হল সুপার

হাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) বিজয়-২৪ হলের একাংশ শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে হলের পানি, ছাদ, পরিচ্ছন্নতা, কুকুরের উপদ্রব এবং সিট বরাদ্দসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন হল সুপার অধ্যাপক ড. মো. নিজাম উদ্দিন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলে নিরাপদ পানির জন্য ব্যবহৃত মোটরের সুইচ খুলে রেখে তাদের ট্যাংকের পানি ব্যবহারে বাধ্য করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থা পরিবর্তনের ফলে নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে হল সুপার অধ্যাপক ড. মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, ❝সুইচ অন থাকলে তিন-চার তলা পর্যন্ত পানি ওভারফ্লো হয়ে অনেক অপচয় হতো। তাই শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আমি একটি কুল ট্যাংকে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করি। কিন্তু দেখা যেত, অনেকেই সুইচ অন করে রাখত, ফলে মেশিন দীর্ঘ সময় ধরে চলত এবং ট্যাংক ওভারফ্লো হয়ে পানি অপচয় হতো। এ কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে সাময়িকভাবে উপরের সুইচ খুলে রাখা হয়েছে, যাতে তারা পানির অপচয় রোধে আরও সচেতন হয়।❞

আরেকটি অভিযোগ হলো, হলের ছাদে তালা দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা কাপড় শুকানো, খোলা পরিবেশে সময় কাটানো কিংবা পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, এ সিদ্ধান্তের কারণে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

এর জবাবে হল সুপার বলেন, ❝আমি যখন দেখলাম ছাদে অনেক ময়লা ও ইট পড়ে আছে, তখন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখি। এগুলো মারামারির কাজেও ব্যবহার হচ্ছিল। এছাড়া ছাদের পানির ট্যাংকের পাইপ ভেঙে পানি জমিয়ে রাখা হতো, যেন তারা ঘর ঠান্ডা রাখতে পারে। ফলে ওই কক্ষগুলোতেই চুইয়ে চুইয়ে পানি পড়ত, পরে তারাই আবার অভিযোগ করত, ‘স্যার, পানি পড়ছে, ঠিক করে দেন।’ এসব কারণে সাময়িকভাবে ছাদ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আমার পরিকল্পনা ছিল ছাদে বড় বড় টবে গাছ লাগানোর, যাতে উপরের ফ্লোর তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে। এজন্য তিন ট্রলি মাটিও চেয়েছিলাম। এছাড়া কতিপয় কিছু শিক্ষার্থী, যারা মাদকের সঙ্গে জড়িত, তারা ছাদকে অবাধ আড্ডার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করত। আমার সম্পদের ক্ষতি হচ্ছিল। এসব কারণেই ছাদটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।❞

ডাস্টবিন ব্যবস্থাপনা নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, বড় ডাস্টবিন সরিয়ে ছোট বালতি ব্যবহারের কারণে কুকুর ও বিড়াল সহজেই ময়লা ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং বিভিন্ন ফ্লোরে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হচ্ছে।

এ বিষয়ে হল সুপার বলেন, বড় ডাস্টবিনে কয়েক দিনের ময়লা জমে থাকত এবং সেগুলো পরিষ্কার করতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সমস্যা হতো। তাই প্রতিদিনের ময়লা প্রতিদিন পরিষ্কারের সুবিধার্থে শক্ত প্লাস্টিকের বালতি ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি বাথরুমও আগের তুলনায় নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

হল এলাকায় কুকুরের উপদ্রব ও শিক্ষার্থীদের আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রক্টরকে মহাদয় কে অবহিত করা হয়েছে। এটি প্রশাসনিক বিষয় হওয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।

সিট বরাদ্দের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা ও সমতা নিশ্চিত না হওয়ার অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, থিসিস ও মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদেরও পর্যাপ্ত সময় না দিয়েই হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

জবাবে হল সুপার বলেন, হল অফিসের তথ্য অনুযায়ী অনাবাসিকদের আবাসিক হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছিল। কেউ নিয়ম অনুসরণ না করলে ফাঁকা সিট দেখাতে হতো। তিনি আরও বলেন, অনেক শিক্ষার্থী সার্টিফিকেট নেওয়ার ছয় মাস পরও হলে অবস্থান করছিলেন। নতুন আবেদনকারীদের মধ্যে সিটের প্রাপ্যতা অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় সার্কুলার জারি করে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে নন। তবে হল-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং বাস্তব সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *