নিজস্ব প্রতিবেদক:
গবাদিপশুর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, অধিক দুধ উৎপাদন এবং লাভজনক খামার গঠনের লক্ষ্যে রংপুরে খামারিদের জন্য একদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন ২০২৬) রংপুর জেলার ব্র্যাক লার্নিং সেন্টার রংপুরের হলরুমে ব্র্যাক কৃত্রিম প্রজনন এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে “অধিক দুধ উৎপাদন, গাভী পালন ও লাভজনক খামার গঠন” শীর্ষক এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
প্রশিক্ষণে জেলার বিভিন্ন এলাকার গবাদিপশু খামারিরা অংশগ্রহণ করেন। গৃহ পর্যায়ে দুগ্ধ গাভী পালন, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, উন্নত প্রজনন প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং খামার ব্যবস্থাপনার রেকর্ড সংরক্ষণ বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ নাজমুল হুদা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা ট্রেনিং অফিসার, নীলফামারী ডাঃ মোঃ আবু সাঈদ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, রংপুর সদর ডাঃ মোঃ বেলাল হোসেন, রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফেটেনিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ লতিফুর রহমান মিলন এবং বাংলাদেশ ডেইরি অ্যান্ড ফেটেনিং অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিল্কভিটার পরিচালক এসএম আসিফুল ইসলাম।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাক কৃত্রিম প্রজনন এন্টারপ্রাইজের জিএম ও হেড কৃষিবিদ ডাঃ মোঃ হারুন-অর-রশিদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক কৃত্রিম প্রজনন এন্টারপ্রাইজের রংপুর রিজিয়নের রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার ডাঃ মোঃ এরমান আলী।
কর্মসূচির সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন এরিয়া সেলস ম্যানেজার মোঃ জুয়েল রানা এবং এসএম জাহিদ হাসান।
বক্তারা বলেন, আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, উন্নত প্রজনন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে দুধ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং খামার আরও লাভজনক হবে। তারা খামারিদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গবাদিপশু পালন ও রোগ প্রতিরোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে কৃষিবিদ ডাঃ মোঃ হারুন-অর-রশিদ বলেন, “গাভীর সুস্বাস্থ্য ও অধিক দুধ উৎপাদনের জন্য ২৪ ঘণ্টা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি গাভীকে আরামদায়ক পরিবেশে মুক্তভাবে চলাচলের সুযোগ দিতে হবে, যা প্রাণীর কল্যাণ ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
প্রশিক্ষণে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি, রোগ নিয়ন্ত্রণ, সঠিক প্রজনন ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্ন খামার পরিচালনা এবং আধুনিক দুগ্ধ খামার ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কৌশল হাতে-কলমে উপস্থাপন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে একটি কুইজ প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারী খামারিদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। এছাড়া কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শ্রেষ্ঠ ১০ জন খামারিকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, খামারিদের দক্ষতা বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন এবং দেশের দুগ্ধ খাতকে আরও শক্তিশালী করতে বছরব্যাপী দেশের বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।