বাকৃবি প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে ঘটে যাওয়া শিশু ধর্ষণ, হত্যা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাকৃবি শাখা।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংগঠনটির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সারাদেশে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একইসঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে বাকৃবি শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি সঞ্জয় রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ হাসান ওয়ালিদ। এছাড়াও এসময় সহ-সম্পাদক জাবের ইসলামসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চললেও বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় ধর্ষণ ও হত্যার মতো নৃশংস ঘটনা থামছে না। সম্প্রতি রাজধানীর বনশ্রীতে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের পর হত্যার ঘটনা এবং পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার প্রসঙ্গ তুলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তারা আরও বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে যৌন নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। কন্যাশিশুর পাশাপাশি ছেলেশিশুরাও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ এবং বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রয়োজন।
সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি সঞ্জয় রায় বলেন, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সমাজে প্রচলিত নোংরা সংস্কৃতির বিস্তার, নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মনুষ্যত্বের অবনতির ফলে সমাজে ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে এবং ধর্ষণের বিচারহীনতার সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় আজকের এই ঘটনা ঘটছে। তাই সমাজে একটি সুষ্ঠু সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ব্যবস্থাই পারে ওই সমাজে ধর্ষক নির্মূল করতে। সেই সঙ্গে এসব ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে সকল সামাজিক অবক্ষয় রুখে দেওয়ার বিকল্প নেই।