অনন্য রহমান:
রংপুর অঞ্চলে গ্রামীণ অর্থনীতি সচলে ভুমিকা রাখছে পাট চাষিরা। বাংলার সোনালী আঁশ খ্যাত পাট প্রক্রিয়াজাতকরণ শেষের পথে। ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে এবার দামও ভাল থাকায় কৃষকরা বেশ খুশি। প্রতিমণ পাট সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই অঞ্চলের পাট চাষিরা এবার ২ হাজার কোটি টাকার বেশি মুনাফা ঘরে তুলবেন পাট ও পাটখড়ি বিক্রি করে এমনটা আশা করা হচ্ছে।
পীরগাছা উপজেলার কল্যানী ইউনিয়নের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, তার ২ একর জমিতে পাট আবাদ করে ফলন পেয়েছেন ৪০ মণ। প্রতি মণ ৩ হাজার ৫ শ টাকা দরে বিক্রি করে পেয়েছেন প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকা। একই পরিমাণ জমি থেকে পাট খড়িও পেয়েছেন ৭০ মণ। পাট খড়ি বিক্রি করেও তার ঘরে আসবে আরও ৩৫ হাজার টাকার মত।
কৃষি অফিস ও ব্যবসায়ীদের সূত্র মতে, রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। দেশি, তোষা, মেস্তা এবং কেনাফ জাতের পট চাষ করেছে কৃষকরা। প্রতি হেক্টরে ২ দশমিক ২৪ মেট্রিক টন এবং ১২ দশমিক ৩০ বেল পাট উৎপাদন হয়েছে। সে হিসেবে এবারে ৬ লাখ ২ হাজার বেল পাট উৎপাদনে প্রতি মণ পাট বিক্রি হয়েছে সর্বনিম্ন সাড়ে তিন হাজার টাকা । অর্থাৎ পাট বিক্রি হবে আনুমানিক ১ একাজার ৭’শ কোটি টাকা। অপরদিকে প্রতিমণ পাটখড়ি বিক্রি হয়েছে গড়ে সাড়ে ৫’শ থেকে ৬শ টাকা। সে অনুপাতে প্রতি হেক্টর জমির পাট খড়ি বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। হিসেব অনুযায়ী এ অঞ্চলের চাষিরা পাট খড়ি বিক্রি করবেন আনুমানিক আড়াই’শ কোটি টাকা। পাট ও পাটখড়ি বিক্রি করে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ঘরে তুলবে এঅঞ্চলের কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এবার পাটের আবাদ ভালো হয়েছে। কৃষকরাও দাম ভালো পাচ্ছে। পাট এবং পাটখড়ি বিক্রি করে কৃষকরা আনুমানিক ২ হাজার কোটি টাকার বেশি ঘরে তুলবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।