বাকৃবি বিশেষ সংবাদদাতা:
ক্যাম্পাসে সবুজায়ন সম্প্রসারণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও শিক্ষার্থীদের পুষ্টি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) উচ্চ ফলনশীল, বারমাসি ও বীজবিহীন ‘বিনা লেবু-১’ জাতের চারা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে ফলজ বৃক্ষের চাষ সম্প্রসারণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভিটামিন সি-এর ঘাটতি পূরণে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের পূর্ব-পশ্চিম ভবনের সামনে বৃক্ষরোপণ কমিটি, বাকৃবির আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। কৃষি অনুষদের ডিন ও ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) পরিচালক (প্রশাসন) ড. মো. লুৎফর রহমান মোল্লা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বৃক্ষরোপণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. হারুন অর রশীদ।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, “পরিবেশ রক্ষা ও পারিবারিক ভিটামিন সি-এর ঘাটতি পূরণে গাছ লাগানোর গুরুত্ব অপরিসীম। ক্যাম্পাসে সবুজায়ন ও পুষ্টির জোগান নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সম্মানিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন, সেটার অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃক্ষরোপণ কমিটির উদ্যোগে বিনা লেবু-১ চারা বিতরণের আজকের এই কর্মসূচি প্রশংসার দাবি রাখে।”
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. জি. এম. মজিবুর রহমান বলেন, “বৃক্ষরোপণের বর্তমান সরকারের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই চারা বিতরণ করা হচ্ছে এবং এটি হলের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি তথা ভিটামিন সি-এর ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
অনুষ্ঠানে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর প্রভোস্টদের মধ্যে বিনা লেবু-১ জাতের চারা বিতরণ করেন। এ সময় কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী প্রতিনিধিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) উদ্ভাবিত বিনা লেবু-১ একটি উচ্চ ফলনশীল, বারমাসি ও বীজবিহীন লেবুর জাত। জাতটির জার্মপ্লাজম ভিয়েতনাম থেকে সংগ্রহ করা হয়। এ জাতের গাছ সারা বছর ফল দেয়। ফল ডিম্বাকার, অগ্রভাগ সূচালো ও সুগন্ধিযুক্ত। বাংলাদেশের লেবু চাষের উপযোগী বিভিন্ন অঞ্চলে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সন্তোষজনক ফলন পাওয়ায় জাতীয় বীজ বোর্ড ২০১৮ সালে জাতটি কৃষক পর্যায়ে চাষাবাদের জন্য ‘বিনা লেবু-১’ নামে নিবন্ধন করে।