ফজলুর রহমান, পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় মাটি ছাড়াই সবজির চারা উৎপাদন পদ্ধতি ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আধুনিক এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সফলতা পেয়েছেন স্থানীয় উদ্যোক্তা রানু মিয়া (৪৫), যিনি এখন স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অন্য কৃষকদের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই পদ্ধতিতে প্লাস্টিকের ট্রে ব্যবহার করে বছরজুড়ে উন্নতমানের সবজির চারা উৎপাদন করা যায়। বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মরিচ ও টমেটোসহ বিভিন্ন সবজির চারা উৎপাদনে ইতোমধ্যে ভালো সাড়া মিলেছে।
পূর্ব ব্রাহ্মণীকুন্ডা গ্রামের কৃষক রানু মিয়া জানান, ইউটিউব দেখে তিনি এই পদ্ধতিতে উদ্বুদ্ধ হন এবং ২০২২ সাল থেকে চারা উৎপাদন শুরু করেন। শুরুতেই বাড়ির পাশে প্রায় ২০ হাজার চারা উৎপাদন করে দুই মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা আয় করেন। এরপর তিনি আরও বড় পরিসরে কাজ শুরু করেন।
বর্তমান মৌসুমে প্রায় ২৫ শতক জমিতে ৭০ হাজার মরিচ, বেগুন ও করলার চারা উৎপাদন করেছেন তিনি। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭১ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে চারা বিক্রি করে প্রায় এক লাখ টাকা আয় করেছেন, যেখানে সম্ভাব্য লাভ দাঁড়াবে অন্তত ৩০ হাজার টাকা।
রানু মিয়া বলেন, “এই পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন সহজ, দ্রুত এবং লাভজনক। ক্রেতারা সরাসরি নার্সারিতে এসে খুচরা ও পাইকারি উভয়ভাবেই চারা কিনে নিয়ে যান।”
চারা উৎপাদনের ক্ষেত্রে নারকেলের ছোবড়া, গোবর ও কচুরিপানাসহ বিভিন্ন উপকরণ নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় পচিয়ে কোকোপিট তৈরি করা হয়। পরে এই কোকোপিট ট্রে বা গ্লাসে দিয়ে বীজ বপন করা হয়। সাধারণত এক সপ্তাহের মধ্যে অঙ্কুর বের হয় এবং ২০-২২ দিনের মধ্যেই চারা বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠে।
এ ছাড়া রংপুরের মডার্নমোড় এলাকায় বিভিন্ন নার্সারিতে প্রস্তুত কোকোপিট কেজিপ্রতি ২২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কিনে সহজেই যে কেউ এই পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন শুরু করতে পারেন।
পীরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম জানান, এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত চারা মাটিবাহিত রোগবালাই থেকে মুক্ত থাকে, ফলে গাছ সুস্থ ও সবল হয় এবং ফলনও বেশি পাওয়া যায়। পাশাপাশি কোকোপিট হালকা হওয়ায় চারা স্থানান্তরের সময় গাছের ক্ষতি কম হয়।
সবমিলিয়ে, মাটি ছাড়াই সবজি চারা উৎপাদন পদ্ধতি পীরগাছার কৃষকদের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে এবং এটি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।