পবিপ্রবিতে উদ্ভাবিত চারা উপহার দিতে ব্যতিক্রমী আয়োজনে নবীনদের বরণ

মোঃ ফাহিম,পবিপ্রবি প্রতিনিধি:

একজন শিক্ষার্থী, একটি গাছ, একটি সবুজ ভবিষ্যৎ’এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ব্যতিক্রমী আয়োজনে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের জিএসটি গুচ্ছভুক্ত নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করেছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি)।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত বিচিবিহীন গাবের জাত ‘PSTU গাব-২’–এর চারা শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের হাতে তুলে দিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের বার্তা দেওয়া হয়।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি কনফারেন্স কক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশে দ্বিতীয় দিনের মতো নবীনবরণ ও ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতেই ফুল দিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ও প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা করা হয়।

ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.বি.এম. সাইফুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ড. আমিনুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা নিয়ে উপস্থাপনা করেন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান। এছাড়া বক্তব্য দেন সিএসই অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. খোকন হোসেন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বদিউজ্জামান, এনএসএস অনুষদের ডিন অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. জামাল হোসেন, প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক মো. আব্দুর রহিমসহ বিভিন্ন হলের প্রভোস্টরা।

অভিভাবকদের পক্ষে আলমগীর ও শাহে আলম এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষে সোহেল রানা জনি, জয় ভাঙ্গী, ফারিয়া, সালেহীন, আফরোজা, ইকরাম, মাহিন, মারুফ ও শিশির বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন, “আপনাদের সন্তানের দায়িত্ব আমাদের। আর আমরা যে গাছের চারা আপনাদের উপহার দিলাম, সেটির যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব আপনাদের। আপনার সন্তান যখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করবে, তখন যেন সেই গাছের ফলও ভোগ করতে পারে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শিক্ষার্থীদের আত্মগঠন, নৈতিকতা ও নেতৃত্ব বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই ভালো কাজ ও ইতিবাচক প্রতিযোগিতায় নিজেদের এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় পাশে থাকবে বলেও আশ্বস্ত করেন।

অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। একই সঙ্গে একটি গাছের চারা উপহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা, প্রকৃতিপ্রেম এবং টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনের প্রত্যয় জাগিয়ে তোলার উদ্যোগ প্রশংসিত হয়।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *