ফজলুর রহমান, পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে চরাঞ্চলের চাষাবাদ। কৃষি বিভাগের সহায়তায় মালচিং পদ্ধতিতে ‘বিজলী প্লাস’ জাতের মরিচ চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। এতে করে এলাকায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে এবং কৃষকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ।
উপজেলার ছাওলা ও তাম্বুলপুর ইউনিয়নের তিস্তা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই কৃষিকাজ প্রধান জীবিকা। কৃষি বিভাগের উদ্যোগে “চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প”-এর আওতায় ১০টি গ্রামের প্রায় ৯০ শতাংশ কৃষক বিভিন্ন ফসল চাষে যুক্ত রয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে ১৪টি প্রদর্শনী প্লটে ‘বিজলী প্লাস’ মরিচের চাষাবাদ করা হচ্ছে।
সম্প্রতি তাম্বুলপুর ইউনিয়নের রহমতচর তারাবাজার এলাকায় কৃষক বাহাদুর মিয়ার মরিচ ক্ষেত পরিদর্শনে দেখা গেছে, গাছভর্তি মরিচে নুয়ে পড়েছে ডালপালা। ক্ষেতজুড়ে সবুজ মরিচের সমারোহ দেখতে ভিড় করছেন আশপাশের কৃষকরা।
কৃষক বাহাদুর মিয়া জানান, কৃষি অফিসের পরামর্শে তিনি চলতি মৌসুমে ২৫ শতাংশ জমিতে এ জাতের মরিচ চাষ করেন। প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ইতোমধ্যে দেড় লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করেছেন। মৌসুম শেষে আরও প্রায় এক লাখ টাকার মরিচ বিক্রির আশা করছেন তিনি।
তিনি বলেন, “বিজলী প্লাস মরিচের রং ও আকার আকর্ষণীয়, ত্বক মসৃণ। বাজারে এর চাহিদা ভালো, দামও তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়। আমার ক্ষেত দেখে অনেক কৃষকই এখন এ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।”
তাম্বুলপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন বলেন, “অন্যান্য জাতের তুলনায় বিজলী প্লাস মরিচ অল্প সময়ে বেশি ফলন দেয়। বাজারে এর ভালো চাহিদা থাকায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।”
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মুকিত বিন লিয়াকত জানান, এ বছর চরাঞ্চলে এ জাতের মরিচে আশানুরূপ ফলন পাওয়া গেছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে আগামীতে আরও বেশি কৃষককে এ চাষে উদ্বুদ্ধ করা হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের মালচিং পেপার, রাসায়নিক সার, জৈব বালাইনাশক ও পোকা দমনে হলুদ আঠালো ফাঁদ সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের সহায়তা করা হচ্ছে।”
চরাঞ্চলের কৃষিতে এ ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ কৃষকদের আয় বৃদ্ধি ও জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।