বাকৃবি প্রতিনিধি :
শবে বরাতের পবিত্র রাতকে কেন্দ্র করে বাঙালি মুসলিম সমাজে প্রচলিত হালুয়া-রুটি খাওয়ার ঐতিহ্য ও বঙ্গীয় মুসলিম সংস্কৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আয়োজন করা হয়েছে ‘তোহফায়ে শবে বরাতের হামদ-নাত ও হালুয়া-রুটি’ অনুষ্ঠান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বাউ সলিডারিটি সোসাইটি’র উদ্যোগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় এই আয়োজন শুরু হয়।
অনুষ্ঠানজুড়ে পরিবেশিত হয় হৃদয়স্পর্শী হামদ ও নাত। হামদ-নাত পরিবেশনার পর উপস্থিত সবার মাঝে হালুয়া ও রুটি বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
এসময় বাউ সলিডারিটি সোসাইটির আহ্বায়ক ছাব্বির হোসেন রিজন বলেন, ‘বঙ্গীয় মুসলিম সংস্কৃতি হাজার বছরের ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা ও মানবিকতার এক অনন্য ধারক। শবে বরাতের এই পবিত্র রাতে আমরা শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সমাজকল্যাণের চেতনাকে নতুন করে জাগ্রত করতে একত্রিত হয়েছি। মুসলিম সংস্কৃতি শুধু ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি নৈতিকতা, জ্ঞানচর্চা ও মানবিকতার এক সুস্থ জীবনদর্শন। স্বদেশীয় সংস্কৃতির শেকড়ে দাঁড়িয়ে আমাদের দায়িত্ব হলো এমন সাংস্কৃতিক চর্চা গড়ে তোলা, যা সমাজকে আলোকিত করবে এবং তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক পথে পরিচালিত করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ প্রয়োজন অন্ধ অনুকরণ নয়, বরং নিজেদের ঐতিহ্য, ভাষা ও মূল্যবোধকে ধারণ করে সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক আন্দোলন সৃষ্টি করা। হামদ-নাতের সুর, সাহিত্যচর্চা, নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা— এসবই হতে পারে আমাদের নীরব বিপ্লবের শক্তি। আমরা মুসলিম ঐতিহ্য ও স্বদেশীয় সংস্কৃতিকে সম্মান করে জ্ঞান, সৌন্দর্য ও মানবতার আলোয় একটি সচেতন ও মর্যাদাবান সমাজ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করি।’