বাকৃবি প্রতিনিধি:
‘শিক্ষা-সংস্কৃতি-মনুষ্যত্ব রক্ষার সংগ্রামের ৪২ বছর’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল ও সমাবেশ করেছে শাখা ছাত্রফ্রন্ট।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় দিবসটি উদযাপনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল জব্বার মোড় থেকে একটি র্যালি বের করে সংগঠনটি। র্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কে আর মার্কেটে এসে শেষ হয়। পরবর্তীতে কে আর মার্কেটেই সমাবেশের আয়োজন করা হয় এবং সমাবেশের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আয়োজন শেষ হয়।
র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। প্রদর্শিত ব্যানারগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ‘জাতীয় বাজেটের ২৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দাও’, ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ কর’, ‘অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ রেলস্টেশন চালু কর’, ‘সপ্তাহে ৭ দিন বাসট্রিপ চালু চাই’ ইত্যাদি।
বাকৃবি শাখার ছাত্রফ্রন্টের সহ সম্পাদক জাবের ইসলামের সঞ্চালনায় সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি শাখার ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক জায়েদ হাসান ওয়ালিদ। এছাড়াও এসময় সংগঠনটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ ও বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে জায়েদ হাসান ওয়ালিদ বলেন, ১৯৮৪ সালের ২১ জানুয়ারি এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এর জন্ম। শিক্ষা আমাদের মৌলিক অধিকার। কিন্তু আজ আমরা দেখতে পাই, টাকা আছে যাদের শিক্ষা আছে তাদের। রাষ্ট্র এই দায় নিচ্ছে না, বরং ব্যপকভাবে বাণিজ্যিকীকরণের পথকে উন্মুক্ত করে দিচ্ছে। স্বাধীনতার পর দিনকে দিন শিক্ষায় বাজেট বরাদ্দ কমেছে।
গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আমাদের আকাঙ্খা ছিল শিক্ষা ও গবেষণায় বাজেট বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু অন্তর্বতীকালীন সরকার বিগত সরকারের পথেই হেঁটেছে। শিক্ষা কমিশন পর্যন্ত উনারা করেনি। আমরা মনে করি, মৌলিক অধিকার হিসেবে শিক্ষার আর্থিক দায়িত্ব রাষ্ট্রের। দেশের সকল নাগরিক নূন্যতম একটা পর্যায় পযন্ত শিক্ষা অর্জন করতে পারবে সেদিকে উদ্যাগ নেওয়া জরুরি। শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ঝড়েপড়া রোধ করে সকল নাগরিককে শিক্ষিত করে তুললে দেশ ও দশের উন্নতি হবে। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর ডাক হিসেবে বলতে চাই, জাতীয় বাজেটের ২৫ ভাগ শিক্ষায় বরাদ্দ দিতে হবে। রাষ্ট্রকে দায় মুক্তি দিয়ে যারা শিক্ষাকে পণ্য বানিয়ে ব্যবসা করছে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই জারি থাকবে।