পীরগাছায় পুকুরে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট ছিটিয়ে মাছ নিধনের অভিযোগ

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি:

রংপুরের পীরগাছায় পুকুরে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট ছিটিয়ে প্রায় ১০ মণ মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৭০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন পুকুরের মালিক সাহেব উদ্দিন। এ ঘটনায় দুইজনকে অভিযুক্ত করে পীরগাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত দুইটার দিকে উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের সোনারায় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্তরা হলেন একই এলাকার মৃত আলী আহম্মেদের ছেলে মাহামুদ জিয়ারুল ও তাঁর স্ত্রী শরিফা খাতুন।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী সাহেব উদ্দিনের বাড়ির দক্ষিণ পাশে ৪৪ শতক জমির ওপর একটি পুকুর রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন জাতের মাছ চাষ করছিলেন তিনি। জমি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। প্রায় চার বছর আগেও ওই পুকুরে বিষাক্ত পদার্থ প্রয়োগ করে মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা হয়।
ভুক্তভূগী সাহেব উদ্দিনের অভিযোগ, পূর্ববিরোধের জেরে অভিযুক্তরা তাঁকে পুকুরের মাছের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে আসছিলেন এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাত দুইটার দিকে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে অভিযুক্তরা পুকুরপাড়ে গিয়ে চারপাশে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট ছিটিয়ে দেন। ওই সময় স্থানীয় দুই ব্যক্তি অভিযুক্তদের পুকুরপাড়ে দেখতে পান। তাঁরা তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা দৌড়ে বাড়িতে চলে যান। পরে রাত সোয়া দুইটার দিকে খবর পেয়ে তিনি পুকুরে গিয়ে দেখতে পান, মাছ পানিতে ভেসে উঠছে। পরে প্রায় ১০ মণ মাছ মারা যায় বলে তিনি দাবি করেন।পরে ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের বাড়ির সামনে গেলে তাঁকে গালিগালাজ, মারধর ও হত্যার হুমকি দেয়।
ভূক্তভূগী সাহেব উদ্দিন বলেন, ‘পুকুরে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট দেওয়ার কারণে আমার প্রায় ১০ মণ মাছ মারা গেছে। এতে প্রায় ৭০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চাই।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাহামুদ জিয়ারুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,
“আমার বিরুদ্ধে পুকুরে গ্যাস ট্যাবলেট বা বিষ প্রয়োগ করে মাছ মেরে ফেলার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি সেই দিন চৌধুরানী বাজারে সার নিতে গিয়েছিলাম। আপনারা চাইলে এলাকার স্থানীয় বক্করসহ অন্যান্যদের সাথে কথা বলতে পারেন।
​মূলত পূর্ব শত্রুতা ও আগের দুইটি মামলার জেরে আমাদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছিল, সেই উদ্দেশ্য থেকেই তারা এখন আমার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অভিযোগ আনছে। মাছ মারা গেছে,কিন্তু পুকুরে সব মাছই ঠিক আছে,কেবল কয়েকটি সিলভার কার্প মাছ মরেছে।
এ বিষয়ে পীরগাছা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম বলেন,এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *