নিজস্ব প্রতিবেদক :
গবাদিপশুর খাদ্য, ওষুধ, শ্রমিকের মজুরি এবং পরিবহন ব্যয় লাগাতার বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি দুধের দাম। ফলে উৎপাদন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন সিরাজগঞ্জের হাজারো দুগ্ধ খামারি। অনেকেই বাধ্য হয়ে লোকসানে দুধ বিক্রি করছেন, আবার কেউ কেউ খামার গুটিয়ে নেওয়ার কথাও ভাবছেন।
দেশের অন্যতম বৃহৎ দুগ্ধ উৎপাদনকারী জেলা সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, বেলকুচি, চৌহালী ও কাজীপুর উপজেলার হাজার হাজার পরিবার গবাদিপশু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে। এসব এলাকায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ দুধ উৎপাদিত হলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ায় চরম হতাশা বিরাজ করছে।
খামারিদের অভিযোগ, বর্তমানে প্রতি লিটার দুধ উৎপাদনে গড়ে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হলেও মিল্কভিটা বা বিভিন্ন সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান দুধ কিনছে ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা দরে। খোলা বাজারে বিক্রি করলে কিছুটা বেশি দাম মিললেও নিয়মিত ক্রেতা না থাকায় অধিকাংশ খামারি বাধ্য হয়ে কম দামেই দুধ বিক্রি করছেন।
শাহজাদপুর উপজেলার এক খামারি বলেন, “খাদ্যের দাম গত কয়েক বছরে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু দুধের দাম প্রায় একই জায়গায় রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে খামার টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।”
প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ দুধ উৎপাদিত হয় এবং জেলার অর্থনীতিতে দুগ্ধ খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তবে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় অসামঞ্জস্যের কারণে খামারিদের লাভের পরিবর্তে লোকসান গুনতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুধের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হলে উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্য নির্ধারণ, মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ, দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাত শিল্পের সম্প্রসারণ এবং খামারিদের জন্য ভর্তুকি ও সহজ ঋণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পশুখাদ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনার প্রশিক্ষণ জোরদার করলে উৎপাদন খরচও কমানো সম্ভব হবে।
এদিকে স্থানীয় খামারিদের দাবি, সরকার দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে অনেক ছোট ও মাঝারি খামার বন্ধ হয়ে যাবে। এতে শুধু খামারিরাই নয়, দেশের দুধ উৎপাদন এবং খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
খামারিদের ভাষ্য, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে তারা আরও বেশি উৎপাদনে আগ্রহী হবেন, যা দেশের দুগ্ধ শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।