রংপুর (গংগাচড়া) প্রতিনিধি :
রংপুরের তিস্তা একসময় প্রবল স্রোতে ভরপুর থাকলেও নদীটি এখন পরিণত হয়েছে মরাখালের বিস্তীর্ণ বালুচরে। নদীর বুকজুড়ে ধূ-ধূ বালুচরে নিস্তব্ধ পড়ে আছে অসংখ্য নৌকা, যা একসময় ছিল স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার প্রধান অবলম্বন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুষ্ক মৌসুম এলেই তিস্তার পানি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। ফলে নদীর অনেক অংশে এখন হাঁটাপথে পার হয় নদী তীরবর্তী মানুষরা।এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য যেমন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পাশাপাশি মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন জেলে সম্প্রদায়ের মানুষজন। এলাকায় তেমন কোন কর্মসংস্থান না থাকায় কর্মজীবীদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে।
তিস্তা নদীর এই বৈরী চিত্র এ অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি থাকে না, আবার বর্ষা এলেই হঠাৎ পানি বেড়ে বন্যা ও ভাঙনের সৃষ্টি হয়। এতে শত শত ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি। এটি বাস্তবায়ন হলে নদীর নাব্যতা ফিরবে এবং কৃষি ও জীবিকা—উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন হবে বলে ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল মনে করে।
তাছাড়াও তিস্তা পাড়ের মানুষ দীর্ঘকাল ধরে নির্যাতিত ও অবহেলিত হয়ে আসলেও এই অঞ্চলের মানুষের স্বার্থে তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
“ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা জানান, আগে তিস্তা নদীতে সারাবছর পানি থাকত, পালতোলা নৌকা, পারাপারের নৌকা চলতো। সৌখিন মাছশিকারি ছাড়াও পেশাদার মাছশিকারীদের পদচারণায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করত। তিস্তার খরস্রোতা নদীতে পানি নেই, খেয়াপার নেই, বালুচরে এই নৌকার মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা, মাঝিমাল্লাদের নিস্তব্ধতা সব মিলিয়ে যেন নিষ্ঠুরবাস্তবতা থমকে দিয়েছে এই জনপদ।
ক্ষতিগ্রস্তরা মনে করছে, সরকার যদি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে, তাহলে এই মরাতিস্তা হয়তো ফিরে আসবে তার স্বাভাবিক অবস্থায়। মানুষ ফিরে পাবে তাদের নতুন জীবন।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উজানে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, নদীর নাব্যতা হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মিলিয়েই তিস্তার বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় #