তারাগঞ্জে তরুণ সুমনের হাত ধরে কমলা চাষে জাগছে কৃষির নতুন সম্ভাবনা

মো. খোকন মিয়া, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী):

রংপুরের তারাগঞ্জে একসময় যেখানে শুধু ধান-সবজি চাষই ছিল কৃষকের প্রধান ভরসা, সেখানে এখন ফল চাষের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে। আর এ পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তরুণ কৃষক মো. সুমন ইসলাম। তার উদ্যোগ, পরিশ্রম ও প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি দেখে আশপাশের কৃষকেরা অনুপ্রাণিত হচ্ছেন নতুনভাবে।

সুমন ইসলামের কমলা বাগান এখন এক ধরনের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। প্রতিদিনই আশপাশের গ্রাম থেকে কৃষকরা বাগানে এসে কমলা চাষপদ্ধতি শিখছেন। লোকমান আলী নামে এক কৃষক বলেন, “তারাগঞ্জে এত সুন্দর কমলা ধরেছে—এটা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাসই করতাম না। স্বাদও অসাধারণ।’’

বীজ ও গাছপালার প্রতি দীর্ঘদিনের অনুরাগ থেকেই সুমন চাকরি ছেড়ে কৃষিকাজে মনোনিবেশ করেন। কৃষি অফিসের সহায়তায় ৯০ শতক জমিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কমলার চারা রোপণ করেন তিনি। নিয়মিত পরিচর্যা, পরিশ্রম ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় অল্প দিনের মধ্যেই তার বাগানে সাফল্যের নতুন গল্প রচনা হয়।

আজ তারাগঞ্জের সে বাগানে সারি সারি সবুজ গাছ, শাখায় ঝুলে থাকা গাঢ় কমলা রঙের ফল আর বাতাসে টক-মিষ্টি ঘ্রাণ যেন জানান দিচ্ছে পরিবর্তনের নতুন বার্তা। সুমনের বাগানের কমলা এখন শুধু স্থানীয় বাজারেই নয়, দেশের বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছে।

শুরুতে অনেকেই সন্দিহান ছিলেন—তারাগঞ্জের মাটিতে কমলা চাষ আদৌ সফল হবে কিনা। কিন্তু সুমনের দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসই তাকে সফল করেছে। তিনি বলেন,
“বহু বছর আমরা ধান ও সবজির ওপর নির্ভর করেছি। আমি চাই আমাদের এলাকায় কৃষিতে নতুন কিছু যুক্ত হোক। কমলা সেই নতুন স্বপ্ন। ফলন দেখে মনে হচ্ছে সিদ্ধান্তটা সঠিক ছিল।”

স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, সুমনের উদ্যোগ তারাগঞ্জে কমলা চাষকে জনপ্রিয় করার নতুন পথ তৈরি করেছে। অনেকেই এখন নিজেদের জমিতেও কমলা চাষের পরিকল্পনা করছেন।

তারাগঞ্জের কৃষি খাতে এ পরিবর্তন যেন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে—যার নেপথ্যে আছেন এক তরুণের স্বপ্ন, অধ্যবসায় আর মাটির প্রতি গভীর টান।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *