আ’লীগ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে হারাগাছে বাস্তভিটা দখল ও থানায় মামলা নিতে থানা পুলিশের গড়িমসির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক :

‎রংপুরের হারাগাছের হরিণটারী সর্দারপাড়া এলাকায় বসতভিটা ও জমি জবরদখল, হামলা- ভাঙচুর, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটপাটের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী তরিফুল ইসলাম ও তাঁর পরিবার। 

‎বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে নগরীর সুমি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী তরিফুল ইসলামের মেয়ে বৃষ্টি আক্তার।

‎লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, হারাগাছ থানার সারাই হরিণটারী এলাকার অজিহার রহমানের সাথে জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। অজিয়ার রহমান,  হেলাল মিয়া, দুলাল মিয়া, সুখতারা বেগমসহ কয়েকজন গত ৩ জুন সকাল ১১টার দিকে অভিযুক্তরা তাঁর পৈতৃক সম্পত্তিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করলে তিনি ও পরিবারের সদস্যরা বাধা দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে।

‎এসময়, অভিযুক্তরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালিয়ে তাঁকে গুরুতর আহত করে। তাঁকে উদ্ধার করতে গেলে তাঁর বাবা আবু তালেব, স্ত্রী মুক্তারা বেগম, গর্ভবতী মেয়ে বৃষ্টি আক্তার ও জামাতা আরিফ মিয়াকেও মারধর করে। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত তরিফুলকে  হারাগাছ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

‎সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, তরিফুল ইসলাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ৪ জুন গভীর রাতে তাঁর বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় তাঁর বাবা আবু তালেবকে মারধর করে আহত করা হয়। পরদিন ৫ জুন সকালে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গেলে অভিযুক্তরা বাড়িতে পুনরায় হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর, টিন ও বেড়া খুলে নিয়ে যায় এবং নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন আসবাবপত্র লুট করে।

‎ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা প্রায় চার লাখ টাকা নগদ অর্থ, তিন ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার এবং প্রায় সাত লাখ টাকার বিভিন্ন মালামাল নিয়ে গেছে। এছাড়া ঘরবাড়ি ভাঙচুরের মাধ্যমে আরও প্রায় দুই লাখ ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে।

‎সংবাদ সম্মেলনে তরিফুল ইসলামের মেয়ে বৃষ্টি  অভিযোগ করেন, হামলার ঘটনায় হরিণ বিড়ির মালিক তরিকুল ইসলাম দিনার যোগসাজশে স্থানীয়দের প্রভাবিত করে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে নিজস্বার্থ হাসিল করতে বিভিন্নভাবে ওজিয়ার রহমানকে সহযোগিতা ও থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে রেখেছেন। থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণে গড়িমসি করেছে। 

‎তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হারাগাছ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অশোক কুমার চৌহান বলেন, “ মামলা না নেয়ার অভিযোগটি সত্য নয়, ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের দুটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

‎সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের দায়ের করা অভিযোগের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন #

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *