সিটি রিপোর্টার:
রংপুরে মন্দিরে মন্দিরে দেবী দুর্গার চরণে শেষ অর্ঘ্য নিবেদনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বিজয়া দশমীর শাস্ত্রীয় পূজা। এরপর নগরীর মুলাটোল দিঘিতে আনুষ্ঠানিক প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হয়।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে রংপুর নগরীর সুরভী উদ্যানের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিমা বিসর্জনের আলোচনা ও র্যালীর আয়োজন করা হয়। বিসর্জনের আলোচনা শেষে র্যালী অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, উদ্বোধক ছিলেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন, সম্মানিত অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব এডভোকেট পরিতোষ চক্রবর্তি, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ মাহবুবুর রশীদ, জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান। সভাপতিত্ব করেন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির রংপুর ও মহানগরের আহবায়ক ডাঃ নিখিলেন্দ্র শংকর গুহ রায়।
মহানগরীর কালিবাড়ি মন্দির, ধর্মসভা, গুপ্তপাড়া মন্দির, পালপাড়া মন্দিরসহ বিভিন্ন মন্দিরে সকাল থেকে ভক্তদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রদীপ জ্বালিয়ে, ধূপ-ফুল ও বেলপাতাসহ নানা উপচারে দেবীর চরণে শেষবারের মতো অর্ঘ্য নিবেদন করেন তারা। প্রার্থনায় উঠে আসে পরিবার-পরিজনের মঙ্গল, সবার সুস্থতা এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধির কামনা।
এ সময় ভক্তরা দেবীর কপালে ও পায়ে সিঁদুর ছুঁইয়ে প্রণাম করেন, পরে একে অপরের কপালে সিঁদুর পরিয়ে দেন। লাল সিঁদুরে রাঙা মুখ, হাসি আর চোখের কোণে জমে থাকা জল-সব মিলিয়ে বিদায়ের মুহূর্তে উৎসবের রং ছড়িয়ে পড়ে মন্দির প্রাঙ্গণে। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে মন্দির চত্বর।
এ বছর রংপুর জেলা ও মহানগরে ৯৬৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৬দিনব্যাপী এই শারদীয় দুর্গোৎসবে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনে ও প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কড়া নজরদারি ও সহযোগিতা প্রদান করেন।