রংপুরে গ্যারেজ মালিক হত্যায় জড়িত ৩ জন গ্রেফতার 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুরের তাজহাট আনছারির মোড় এলাকায় অটোরিকশা গ্যারেজ মালিককে হত্যার ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন  র‌্যাব । গ্রেফতারকৃতরা হলো মোঃ দুলাল মিয়া (৪৫), মোছাঃ ফিরোজা বেগম (৫৫) ও মোঃ রেজাউল ইসলাম (৫৫)।

বুধবার দিবাগত রাতে রংপুর নগরীর তাজহাট আনসারীর মোড় এলাকায় আব্দুর রহমান (৬৫) নামে এক অটোরিকশা গ্যারেজ মালিককে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে রংপুর তাজহাট থানায় একটি হত্যা মামলা  দায়ের করা হয়। মামলা নং-৮ 

এদিকে হত্যাকারী গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয় এবং এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সদর কোম্পানী, র‌্যাব-১৩, রংপুরের একটি অভিযানিক দল তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সাথে জড়িত আসামিদের সনাক্তপূর্বক ১৪ আগস্ট, ২০২৬ তারিখ ১নং আসামি মোঃ দুলাল মিয়া (৪৫), পিতা-হায়দার আলী, সাং-পূর্বখাসবাগ, থানা: মাহিগঞ্জ, জেলা: রংপুর’কে রাত ১ টার দিকে রংপুর নগরীর মাহিগঞ্জ থানা এলাকা হতে এবং ২নং আসামি মোছাঃ ফিরোজা বেগম (৫৫), পিতা-নাসির উদ্দিন ও ৩নং মোঃ রেজাউল ইসলাম (৫৫), পিতা-মহির উদ্দিন, উভয় সাং-ভোটমারী, থানা-কালীগঞ্জ, জেলা-লালমনিরহাট’ দুজনকে ভোর ৪ টার সময় লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ থানা এলাকা হতে  গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে,  প্রায় দুইবছর আগে ফিরোজা বেগমের স্বামী মারা যায়। অপরদিকে আসামি দুলাল মিয়া নিহত গ্যারেজ মালিক আব্দুর রহমান (৬৫) এর গ্যারেজ হতে অটোরিক্সা ভাড়া নিয়ে চালাতো। আনুমানিক ৫/৬ মাস আগে নিহত আব্দুর রহমান এর স্ত্রী তাকে তালাক দিয়ে চলে গেলে এই সুবাদে দুলাল মিয়া ফিরোজা বেগমের অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে ও নিহত আব্দুর রহমান এর কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে গোপনে উকিল বাবা সেজে নিহত আব্দুর রহমানের সাথে আসামি ফিরোজা বেগমের বিয়ে দেয়। বিয়ের ৫/৭ দিন পর থেকে আব্দুর রহমান ফিরোজা বেগমকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করলে ফিরোজা বেগম আর সংসার করবে না বলে জানিয়ে দেন। অতঃপর ঘটনার প্রায় সাতদিন আগে দুলাল মিয়ার মধ্যস্থতায় ১,০০,০০০/- (একলক্ষ) টাকার বিনিময়ে নিহত আব্দুর রহমান ও আসামি ফিরোজা বেগমের তালাক সম্পন্ন করা হয়। উল্লেখ্য, বিয়ের সময় দুলাল মিয়া ভিকটিমের কাছ থেকে দুইটি অটোরিক্সাও নিয়ে দিবে মর্মে ফিরোজাকে আশ্বস্ত করেছিলেন। ডিভোর্সের পর বিভিন্ন অজুহাতে দুলাল মিয়া ফিরোজা বেগমের কাবিনের ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা নিজের কাছে রেখে দেয়। পরবর্তীতে ঘটনার আগের দিন দুলাল মিয়া অটোরিক্সা উদ্ধারের কথা বলে ফিরোজার কাছে ৪ হাজার টাকা দাবি করলে ফিরোজা টাকা না দিয়ে রিক্সা উদ্ধার করলে তাকে একটি রিক্সা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এদিকে দুইজন আসামির সাথে সমন্বয় করে অপর আসামি  মোঃ রেজাউল ইসলাম (৫৫) পরস্পর যোগসাজস করে আব্দুর রহমানকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

গ্রেফতারকৃত আসামিদেরকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *