নিজস্ব প্রতিবেদক | রংপুর:
রংপুরে এক আদালতকর্মীর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা, ধর্ষণ, তথ্য গোপন করে বিয়ে এবং আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রোকসানা আক্তার নামে এক নারী। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে রিপোর্টার্স ক্লাব রংপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে রোকসানা আক্তার জানান, ২০২০ সালে একটি পারিবারিক মামলার সূত্রে অভিযুক্ত মাসুদ রানার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তিনি নিজেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্টাফ পরিচয় দিয়ে মামলায় সহযোগিতা ও অনুকূল রায় পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। সেই বিশ্বাসে তিনি বিভিন্ন সময়ে অর্থ প্রদান করেন, যা পরে প্রতারণা বলে বুঝতে পারেন বলে দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মাসুদ রানা তার পূর্বের বিবাহ ও দুই সন্তানের বিষয়টি গোপন রেখে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং একপর্যায়ে রংপুর নগরীর মুলাটোল এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন। পরে দীর্ঘদিন বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখেন বলেও দাবি করেন তিনি।
রোকসানার ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি মুসলিম শরিয়াহ অনুযায়ী ১০ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর তিনি স্বামীর বিকাশ নম্বরে নিয়মিত নিজের বেতন-ভাতার অর্থ পাঠিয়েছেন বলেও দাবি করেন। তবে পরে কাবিননামা সংগ্রহ করে তিনি জানতে পারেন, অভিযুক্তের আগের স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে, যা তার কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তের পরিবার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আত্মীয়-স্বজন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাননি।
এছাড়া মাসুদ রানা মামলা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকেও অর্থ নিয়ে প্রতারণা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন রোকসানা। তিনি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো অভিযোগকারীর বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযুক্তের বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।