পবিপ্রবিতে নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য সাইফুল ইসলাম, ট্রেজারার আতিকুর রহমান

মোঃ ফাহিম, পবিপ্রবি প্রতিনিধি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপ-উপাচার্য (প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান।

সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে ‘পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১’-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৭ সালে তিনি পবিপ্রবির মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। তিনি ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।

অন্যদিকে ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ২০০৩ সালে পবিপ্রবির কীটতত্ত্ব বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি অধ্যাপক (গ্রেড-১) হিসেবে কর্মরত। দক্ষিণ কোরিয়ার কিয়ংপুক ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি কীটতত্ত্বে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র মলিকুলার ও ট্র্যাডিশনাল ইনসেক্ট ট্যাক্সোনমি, ইনসেক্ট বায়োডাইভার্সিটি, ইনসেক্ট ইকোসিস্টেম সার্ভিস এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ড. আতিকুর রহমানের ৫৩টির বেশি গবেষণা প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বিশ্বের ৩১টি নতুন ইনসেক্ট প্রজাতি শনাক্তের পাশাপাশি অর্ধশতাধিক নতুন রেকর্ডেড স্পেসিস সংযোজন করেছেন। এ ছাড়া জিনব্যাংকে ২৭টি জিন সিকোয়েন্স জমা দিয়েছেন এবং দেশি-বিদেশি ১৬টি গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করেছেন। গবেষণায় অবদানের জন্য তিনি কোরিয়ান গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ, এক্সেলেন্ট একাডেমিক অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড, অ্যাপ্রিসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড এবং পবিপ্রবির সেরা গবেষণা পুরস্কার (২০২৩–২৪) অর্জন করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন, “নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারারকে অভিনন্দন জানাই। উপ-উপাচার্যের পদে নতুন নিয়োগের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আমি আশাবাদী। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে নেওয়া এবং এর অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *