বাকৃবি প্রতিনিধি:
বিশ্ব দুগ্ধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী আয়োজন। এর প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং হোম কিচেন ডেইরি রেসিপি প্রতিযোগিতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেন স্কুল শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং আশপাশের এলাকার গৃহিণীরা।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের করিডোরে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ‘দুগ্ধ শিল্পে নারী খামারিদের অবদান’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় বাকৃবি ক্যাম্পাসসংলগ্ন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৪৫ জনের বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
প্রতিযোগিতায় শিশুদের আঁকা ছবিতে উঠে আসে গ্রামীণ জনপদের জীবনচিত্র, দুগ্ধ খামার ব্যবস্থাপনা, নারী খামারিদের শ্রম ও অবদান, সবুজ প্রকৃতি এবং পুষ্টির বিভিন্ন অনুষঙ্গ। রঙ-তুলির মাধ্যমে তারা দুগ্ধ খাতের সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতি ও পুষ্টির সম্পর্কও ফুটিয়ে তোলে।
প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী সকল শিশু-কিশোরের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বিশ্ব দুগ্ধ দিবসের আয়োজনকে ঘিরে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ডেয়রি বিজ্ঞান বিভাগের বিশ্ব দুগ্ধ দিবস-২০২৬ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রায়হান হাবিব, বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মাসুম,ডেয়রি বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশিকুল ইসলাম,বাউরেস সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ জাভিদুল হক ভূঞাঁ। এছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী ইশরাত বিনতে রাজি বলেন, আমি বিশ্ব দুগ্ধ দিবসে নারী শক্তি ও নারীদের খামার পরিচালনার উপরে ছবি এঁকেছি। যেখানে আছে গ্ৰামের মহিলাদের নিজেদের খামারে কাজ করা, গরুর দুধ দোহানো, গরুর দুধ দিয়ে বিভিন্ন খাবার বানানো এবং তাদের সন্তানদের খাওয়ানোর চিত্র।
এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় ‘হোম কিচেন ডেয়রি রেসিপি কম্পিটিশ’ শিরোনামে রন্ধন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সারি সারি ১৬টি স্টলে সেখানে ছিল নজর কাড়া বাহারি ধরনের খাবার এবং অসাধারণ নাম যেমন রসগোল্লা দইবড়া বোরহানি, কমলপুলি,সাগরদই,আঙুরের পায়েশ,ছানার লুচি, পাটিসাপটা,ম্যাংগো ফর্টিফাইড রাইস পুডিং,শাহি টুকরা,মালাই রস ব্রেড ডিলাইটস,দুধ পুলি ইত্যাদি।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী রাজিয়া অ্যানি তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, আমাদের প্রথম খাবারটি হচ্ছে ছানার রসোগোল্লা । যেখানে কোন আটা ব্যবহার করা হয়নি। আমাদের দ্বিতীয় খাবারটি হচ্ছে মালাই রস ব্রেড ডিলাইটস। যেখানে মালাই , পাউরুটি, ছানা ও দুধ ব্যবহৃত করা হয়েছে। এটি বাচ্চাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এবং এর সুন্দর সাজানো বাচ্চাদের আকর্ষণ করে।