সিমাগো ইনস্টিটিউশনস র‍্যাঙ্কিংয়ে ভেটেরিনারি সায়েন্সে শীর্ষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

বাকৃবি প্রতিনিধি:

স্পেনভিত্তিক আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণা মূল্যায়ন প্রতিষ্ঠান সিমাগো ইনস্টিটিউশনস র‍্যাঙ্কিংস-২০২৬ এ ভেটেরিনারি সায়েন্স বিষয়ে দেশের মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। এ র‍্যাঙ্কিংয়ে এশিয়ার ২৫১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ৯২তম এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে ৪৩২তম।

রবিবার (৭ জুন) দুপুর ১২টায় বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান। এসময় ভেটেরিনারি অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. মো. মকবুল হোসেন, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালের পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান বলেন, ‘সিমাগো র‍্যাঙ্কিং মূলত স্পেনভিত্তিক। তারা শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, দেশ এবং গবেষণা প্রবন্ধের তালিকা প্রকাশ করে। এ বছর বিশ্বের ১০ হাজার ৮২৭টি প্রতিষ্ঠান তালিকায় স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫ হাজার ৪৯১। এর মধ্যে ভেটেরিনারি সায়েন্স ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত ১৩০৬ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৭৮ টি তালিকাভুক্ত হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১ম অবস্থানে আছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদ। এশিয়া অঞ্চলের ২৫১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাকৃবির অবস্থান ৯২ তম এবং বিশ্বের ৯৭৮ টির মধ্যে আমাদের অবস্থান ৪৩২ তম।’

তিনি আরও জানান, ভেটেরিনারি সায়েন্স ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, যার বৈশ্বিক অবস্থান ৫৯৩তম। তৃতীয় স্থানে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (১১০৪তম), চতুর্থ স্থানে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (১১৬২তম) এবং পঞ্চম স্থানে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (১২৮৫তম)।

জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক এই অবস্থান ধরে রাখার ও উন্নয়নের প্রচেষ্টার বিষয়ে অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান বলেন, ‘এই অর্জন পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গর্বের। শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এ সাফল্য এসেছে। ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে এ ধারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব আমরা। সে লক্ষ্যেই অনুষদের সকল বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে ১৫ সদস্যের একটি র‍্যাঙ্কিং সেল আমরা গঠন করেছি। এই সেলের কাজ ই হবে র‍্যাঙ্কিং বিষয়ে যাবতীয় কাজের খেয়াল রাখা এবং সমন্বয় করা।

এসময় মাইক্রোবায়োলজি এন্ড হাইজিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. কে এইচ. এম. নাজমুল হুসাইন নাজির বলেন, ‘ভেটেরিনারি সায়েন্স ক্যাটাগরিতে মূলত গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং সামাজিক প্রভাব – এই তিনটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। শুধুমাত্র স্কোপাস ইনডেক্স জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধ এখানে বিবেচনায় নেওয়া হয়। এখানে আমাদের বড় একটি সীমাবদ্ধতা হলো প্রকাশনা বিষয়ক খরচ। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেম থেকে কিছু বাজেট দেওয়া হয়। তবে সেটি প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। গবেষণায় সরকারিভাবে আর্থিক বরাদ্দ একেবারেই নগন্য। সরকারিভাবে বরাদ্দ বাড়ালে শিক্ষার্থীদেরকে স্নাতক পর্যায় থেকেই সক্রিয়ভাবে গবেষণায় যুক্ত করা যাবে। এতে করে বিশ্বব্যাপী আমাদের অবস্থান আরও এগিয়ে নেওয়া যাবে।’

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *