বাকৃবিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস পালন

বাকৃবি সংবাদদাতা:

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ‘ভেটেরিনারিয়ানরা খাদ্য ও স্বাস্থ্যের অভিভাবক’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হয়েছে বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস-২০২৬। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যালি, কেক কাটা এবং বিনামূল্যে ছাগলের পিপিআর টিকাদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য এক র‌্যালির আয়োজন করে ভেটেরিনারি অনুষদ।

র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন চত্ত্বর থেকে শুরু হয়ে উপাচার্যের বাসভবন, কে.আর মার্কেট হয়ে ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালে গিয়ে শেষ হয়। র‍্যালিতে ভেটেরিনারি অনুষদের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। র‍্যালিশেষে বাকৃবির ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালে দিবসটি উপলক্ষে কেক কাটা হয়। এসময় হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ছাগলের পিপিআর ভ্যাক্সিনেশনের আয়োজন করা হয়। 

বাকৃবির বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস ২০২৬ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মো. ‍মাহমুদুল আলম বলেন, “বেলা ১ ঘটিকা পর্যন্ত এই ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম চলবে। পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন স্টকে রয়েছে এবং যে কেউ ছাগল নিয়ে এসে এই ফ্রি ভ্যাকসিন দিয়ে নিতে পারবেন।” 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান। অনুষ্টানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস ২০২৬ উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম, কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মো. ‍মাহমুদুল আলম, অধ্যাপক ড. মোঃ মকবুল হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল আলম, অধ্যাপক ড. মো. আলম মিয়াসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

বাকৃবির বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস ২০২৬ উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, “প্রাণী থেকে আহরিত দুধ, ডিম ও মাংস যাতে রোগজীবাণু মুক্ত থাকে এবং শতভাগ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেটি পরিদর্শন ও নিশ্চিত করা আমাদের পেশাদারী দায়িত্ব। এছাড়া র‍্যাবিস, অ্যানথ্রাক্স এবং ব্রুসেলোসিসের মতো মারাত্মক জুনোটিক বা প্রাণীবাহিত রোগ যাতে পশু-পাখি থেকে মানুষের দেহে সংক্রমিত না হতে পারে, সেজন্য আমরা নিরলসভাবে টিকাদান ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। মূলত প্রাণীর সুস্বাস্থ্য রক্ষার মাধ্যমেই মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমানো সম্ভব। নিরাপদ প্রাণিজ আমিষের জোগান এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেটেরিনারিয়ানরা আজ এক অপরিহার্য অভিভাবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ।” 

এসময় প্রধান অতিথি বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন,” ভেটেরিনারিয়ানরা কেবল প্রাণীর চিকিৎসা নয়, বরং খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের অতন্ত্র প্রহরী। প্রাণীর স্বাস্থ্য রক্ষা করলে মানুষের সুস্বাস্থ্যও নিশ্চিত হয়। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রাণী সম্পদের গুরুত্ব অনেক বেশি। ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণা অনুযায়ী মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের সুস্বাস্থ্য একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। ওয়ার্ল্ড ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশনের মতে ভেটেরিনারিয়ানরাই স্বাস্থ্য ও খাদ্যের প্রকৃত রক্ষক। সম্মিলিতভাবে প্রাণী ও মানব স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যাতে কাজ করি বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবসে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *