ফাঁকা হচ্ছে হল, ভোট দিতে বাড়ির পথে বাকৃবির শিক্ষার্থীরা

বাকৃবি বিশেষ সংবাদদাতা:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আবাসিক হলগুলো ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। ভোট দিতে বাড়ির পথে ছুটছেন বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা। স্বাভাবিক দিনগুলোতে যেখানে ছাত্র-ছাত্রীর ভিড়ে থাকে ক্যাম্পাস সেখানে এখন নীরবতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের হোটেল, ক্যান্টিন ও খাবারের দোকানগুলোর বেশিরভাগই ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।

গত শুক্রবার থেকেই শিক্ষার্থীদের অনেকেই বাড়ি যেতে শুরু করে।

সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল বেলা দেখা যায় শিক্ষার্থীরা বাড়ি চলে যাওয়ায় অনেক আবাসিক হলেই শুনশান নিরবতা বিরাজ করছে। 

ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থী রায়হান ইসলাম বলেন, “ভোট আমাদের অধিকার। ব্যস্ততা থাকে, ক্লাস থাকে, তবু ভোটের সময় বাড়ি যাওয়া আমার কাছে দায়িত্বের জায়গা থেকে আসে। তাই আগেই রওনা দিলাম।”

পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থী আরিফুল ইমন বলেন, “নির্বাচন মানে শুধু ভোট নয়, এটা অংশগ্রহণের ব্যাপার। আমরা যদি না যাই, তাহলে অভিযোগ করার অধিকারও কমে যায়। তাই সব কাজ গুছিয়ে আজকে সকালেই রওনা দিলাম।”

ফিশারিজ ম্যানেজমেন্টের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সায়ফা সাবা হোসেন বলেন, “ভার্সিটির হল থেকে বাড়ি ফেরা আজ আলাদা কারণ আজ আমি আমার প্রথম ভোট দিতে যাচ্ছি, নিজের সিদ্ধান্ত নিজে লিখতে,আজকের বাড়ি ফেরা নস্টালজিয়ার না, নাগরিক হওয়ার আনন্দে ভরা এবং প্রথম ভোট দিতে যাওয়ার পথে বুঝছি, বড় হওয়া মানে শুধু ডিগ্রি না, দায়িত্ব নেওয়াও।”

কৃষি রসায়ন বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্রী মৌরি তানিয়া জয়া বলেন, “ভার্সিটির হল ছেড়ে বাড়ির পথে হাঁটছি শুধু ভোট দিতে। নিজের প্রথম নাগরিক দায়িত্ব পালনের আনন্দটা আজ সবচেয়ে বড় এবং হলের ব্যস্ততা পেছনে রেখে আজ বাড়ি ফিরছি কারণ আজ আমি শুধু ছাত্রী নই আমি একজন ভোটার।”

কৃষি অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাহেদুল হক বলেন, “এটাই আমার প্রথম ভোট। বইয়ে পড়েছি ভোটাধিকার নিয়ে, এখন বাস্তবে সেটা প্রয়োগ করব ভাবতেই ভালো লাগছে। দেশের জন্য ছোট হলেও এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।”

শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফেরা অব্যাহত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ আরও শান্ত হয়ে পড়েছে। নির্বাচন শেষে তারা আবার ক্যাম্পাসে ফিরবে এমন অপেক্ষায় আছেন সবাই।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *