বাকৃবি ক্যাম্পাসে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন

বাকৃবি প্রতিনিধি :

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান–২০২৬’। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানটি দুটি পর্বে সম্পন্ন হয়। প্রথম পর্বে সকাল ৯টায় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক। দ্বিতীয় পর্বে বিকেলে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ এবং পরে বিকেল সাড়ে ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বালক ও বালিকাদের জন্য পৃথক পৃথক আয়োজন করা হয়। বালকদের জন্য ১০, ১৫ ও ২০ মিটার দৌড়, মোরগ লড়াই, ঝুলিতে বল নিক্ষেপসহ বিভিন্ন খেলা অনুষ্ঠিত হয়। অপরদিকে বালিকাদের জন্য ছিল দৌড় প্রতিযোগিতা, পুতুল নাচ, স্মৃতিশক্তি পরীক্ষা, চকলেট দৌড়সহ নানা আনন্দঘন আয়োজন। মোট ৩৩টি খেলায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রতিটিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের পুরস্কৃত করা হয়। পাশাপাশি বার্ষিক ফলাফলের ভিত্তিতে নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সেরা ফলাফলকারী শিক্ষার্থীদেরও পুরস্কার প্রদান করা হয়।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল আলমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও বাকৃবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার, ইন্টারডিসিপ্লিনারি ইনস্টিটিউট ফর ফুড সিকিউরিটির (আইআইএফএস) পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মাহবুব আলম, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম এবং উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আজিজুল হক। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড এ কে ফজলুল হক ভূইয়া বলেন, এই ধরনের আয়োজনগুলো প্রত্যেকটা স্কুলের জন্য প্রতিবছরের একটি নিয়মিত চাহিদা। আমরাও ছোটবেলায় অধির আগ্রহে থাকতাম যে কখন আমাদের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে । এই প্রতিযোগিতাগুলোর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীর মাঝে যে সৌহার্দ্য গড়ে উঠে এবং ছাত্র- অভিভাবক এর সাথে স্কুলের যে সম্পর্ক গড়ে উঠে এটি একটি বিদ্যালয়ের অগ্রগতিতে অনেক সাহায্য করে।

তিনি আরও বলেন, আমিই অনেক খুশি হয়েছি এটা জানতে পেরে যে এখানকার ছাত্রছাত্রীরা অনেক ভালো ফলাফল করছে, এখান থেকে বের হয়ে অনেক ভালো ভালো প্রতিষ্ঠানে তারা পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে । বিদ্যালয়ের কমিটি সামনের দিনে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদানের পরিকল্পনা করছে এবং বিশ্ববিদ্যলয়ের পক্ষ থেকে যতটুকু সহযোগিতা সম্ভব করতে পারব বলে আশা করছি।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *