বাকৃবি প্রতিনিধি:
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে এবং দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) শাখা। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা বাকৃবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (বাকসু) নির্বাচন আয়োজনের দাবিও জানানো হয়।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন অনুষদ, বিভাগ ও আবাসিক হল থেকে আগত ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।
মানববন্ধন চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। এতে শাকসু ও বাকসু নির্বাচন দ্রুত দেওয়ার দাবি তুলে ধরে নানা স্লোগান ও প্রতিবাদী বক্তব্য লেখা ছিল। প্রদর্শিত ব্যানারগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ‘বাকসু চাই দিতে হবে, শাকসু চাই দিতে হবে’, ‘জাতীয় নির্বাচন আরাম, ছাত্র সংসদ নির্বাচন হারাম?’ এবং ‘ছাত্রদের কণ্ঠস্বর দমন বন্ধ করো, গণতন্ত্র আমাদের অধিকার’ ইত্যাদি।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি কথিত বড় দলের ছাত্র সংগঠন মববাজি করে আদালত থেকে রায় নিয়েছে। আমরা আপনাদের মববাজিকে বৃদ্ধা আঙ্গুলি দেখাই। স্থগিত হওয়া শাকসু নির্বাচন অতি দ্রুতই দিতে হবে।
আমরা আদালতকে মান্য করি, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু গণতন্ত্রকে হত্যা করে এই ধরনের কাজ আপনারা করবেন না। আপনারা যদি আবার সেই ফ্যাসিস্ট হতে চান তাহলে মনে রাখবেন ছাত্র জনতা যেহেতু রক্ত দিতে শিখেছে, সেই রক্ত দিয়েই সকল ধরনের ফ্যাসিস্টকে প্রতিহত করব ইনশাল্লাহ।
মানববন্ধনে বাকৃবি ছাত্রশিবির সভাপতি আবু নাসির ত্বোহা বলেন, একটি প্রবাসী নেতা দেশে এসে বলেছিলেন “আই হ্যাভ অ্যা প্লান” এই প্লান মানে কি গণতন্ত্রকে হত্যা করা? ছাত্র সংসদ গুলোকে বন্ধ করা? যদি এই হয় তাহলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিতে চাই । ছাত্র-জনতা অবশ্যই অবশ্যই লাল কার্ড দেখিয়ে আবারও সেই প্রবাসে ফেরত পাঠাবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাকসু আয়োজন করতে হবে, সেই সাথে স্থগিত হওয়া শাকসু নির্বাচন অতি দ্রুতই বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সাথে এই দাবি জানাতে চাই, বাংলাদেশে ১৯ জন ঋণ খেলাপি সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়েছে। তারা যদি ক্ষমতায় না থেকেই ১৮শ কোটি টাকা লোপাট করতে পারে, ক্ষমতায় আসলে আল্লাহই জানেন কি হবে। তাদের এই প্রার্থীতা আবারো বিবেচনায় নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত জানাতে হবে।