
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর ভরাডুবি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। উত্তরবঙ্গে সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিএনপি তুলনামূলকভাবে কম আসন পাওয়ায় অনেকের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে—এ অঞ্চলের উন্নয়ন কি তবে আবারও পিছিয়ে পড়বে? ইতিহাসের দীর্ঘ সময় ধরে উত্তরবঙ্গ অবকাঠামো, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে বৈষম্যের অভিযোগ বহন করেছে। ফলে রাজনৈতিক ফলাফলকে কেন্দ্র করে এমন আশঙ্কা একেবারে অমূলক নয়। তবে বিষয়টিকে কেবল নির্বাচনী পরাজয়ের চোখে দেখা হলে বাস্তবতার একটি বড় অংশ উপেক্ষিত থেকে যায়।
রাজনীতির প্রকৃত শক্তি নির্বাচনী ফলাফলে সীমাবদ্ধ নয়; তা নিহিত থাকে জনসমর্থন, সংগঠনগত সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গিতে। উত্তরবঙ্গের মানুষ, বিশেষত রংপুর অঞ্চলের ছাত্র ও তরুণদের রাজনৈতিক সচেতনতা এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণ অতীতে বহুবার জাতীয় রাজনীতিকে প্রভাবিত করেছে। সুতরাং একটি নির্বাচনের ফলাফল দিয়ে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক গুরুত্বকে ছোট করে দেখা বাস্তবসম্মত নয়।
বরং এখন সময় রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য আত্মসমালোচনা ও পুনর্গঠনের। যেসব এলাকায় ফল ভালো হয়নি, সেসব জায়গাকেই ভবিষ্যৎ শক্তির কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। উন্নয়ন কার্যক্রমে পক্ষপাতিত্ব দেখানো বা কম মনোযোগ দেওয়া হলে তা জনমনে হতাশা বাড়াবে এবং রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বিপরীতে, জনগণের চাহিদা ও সম্ভাবনার ভিত্তিতে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে হারানো আসনগুলোই ভবিষ্যতের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হতে পারে।
রাজনীতির মানোন্নয়ন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, এবং নির্বাচনী ইশতেহারের বাস্তব প্রয়োগ—এই তিনটি বিষয় এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জনগণ এখন আর কেবল প্রতিশ্রুতি শুনতে চায় না; তারা দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে চায়। যে দল এই বাস্তবতা বুঝবে, তারাই আগামী দিনে জনসমর্থন পাবে।
সবচেয়ে বড় কথা, ক্ষমতা কিংবা পরাজয়—দুটোই সাময়িক। রাষ্ট্র স্থায়ী, জনগণ স্থায়ী। তাই দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সমগ্র বাংলাদেশ এর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। রাজনৈতিক দলগুলোর মূলমন্ত্র হওয়া উচিত—হার বা জিত নয়, সবার আগে দেশ।